শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের কান্না। -প্রতীকী ছবি

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে এমন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকা, শিক্ষকসংকট, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার মতো নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ফল খারাপ হয়েছে।

শিক্ষা গবেষকেরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম এবং শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করা দরকার। পাশাপাশি অনুমোদন পাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তদারকির আওতায় ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচজন শিক্ষার্থী। তাদের সবাই ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকেরা বলছেন, নানা সংকটের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। তাদের একজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণিতের শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হয়েছে।

গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন।

শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক পড়াশোনার বিষয়ে সচেতন নন। বিশেষ করে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ক্লাস চলার সময়ও কখনো কখনো অভিভাবকেরা এসে মেয়েদের নিয়ে যান। পরে জানা যায়, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগের চিত্র প্রায় একই। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল পাঁচ থেকে সাতজন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশই মাদরাসা।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শোকজ করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। ধাপে ধাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা নিজেদের কোনো সমস্যার কারণে যদি এমন ফলাফল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা গবেষকেরা বলছেন, শুধু শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ফলাফলের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা এবং তার সঙ্গে এক বা দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। তাদের পক্ষে পুরো এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। এর বাইরে তাদের আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান জরুরি। তাদের মতে, বিগত সময়ে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশও নেই।

তাই শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর