সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

‘শুধু পাস দিয়ে জাতি টিকে থাকতে পারে না, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে’

মহিউদ্দিন রাব্বানি
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘শুধু পাস দিয়ে জাতি টিকে থাকতে পারে না, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে’
রেজাল্ট পেয়ে উচ্ছসিত মতিঝিল আইডিয়ালের শিক্ষার্থীরা (ইনসেটে অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ)। ছবি: ঢাকা মেইল

শুধু কতজন শিক্ষার্থী পাস করল, সেই সংখ্যা দিয়ে একটি জাতির শিক্ষার প্রকৃত অগ্রগতি পরিমাপ করা যায় না। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কতটা বুঝে শিখছে এবং সেই জ্ঞান ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা কাজে লাগাতে পারছে, সেটিই শিক্ষার মূল বিষয়। তাই পাসের হার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে বলে মনে করেন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সোমবাবর (১০ আগস্ট) ঢাকা মেইলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষকদের ভূমিকা, প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তন, বোর্ড পরীক্ষার অভিজ্ঞতাহীনতা এবং শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

image

এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৮ দশমিক ০২ শতাংশ। সারাদেশের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার যখন ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, তখন প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলকে ভালো ফল হিসেবে দেখছেন অধ্যক্ষ। তবে এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তিনি। কারণ তার প্রত্যাশা ছিল শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবে।

অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের বক্তব্যে একই সঙ্গে এসেছে সাফল্যের স্বস্তি এবং আরও ভালো করার তাগিদ। তার মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভালো ফল করানো নয়, বরং সব শিক্ষার্থীকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া।

৯৮ শতাংশ পাসে সন্তুষ্টি, তবু লক্ষ্য শতভাগ:
চলতি বছর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৭২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ০২ শতাংশ।

ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ বলেন, সারাদেশে যেখানে পাসের হার ৬২ শতাংশের কিছু বেশি, সেখানে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি ভালো ফলাফল। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলে তারা আরও বেশি খুশি হতেন।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ৯৮ শতাংশ পাসকে অর্জন হিসেবে দেখলেও বাকি শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়েও তিনি ভাবছেন। কারণ তার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য মানে শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা নয়; পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদেরও এগিয়ে আনা।

শিক্ষকদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই সাফল্যের ভিত্তি:
ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে অধ্যক্ষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ধারাবাহিকতার ওপর।
তার মতে, শুধু পরীক্ষার কয়েক মাস আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করলেই ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা যায় না। সারা বছর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসের মধ্যে রাখতে হয়। তারা বিষয়টি কতটা বুঝেছে, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হয়।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকাজের পাশাপাশি পরীক্ষা নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর সমস্যা থাকলে সেটি আবার বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় অনুশীলন করানো হয়।

অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের বলেন, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়াই তাদের মূল প্রক্রিয়া। অর্থাৎ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে সাময়িক প্রস্তুতির বদলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু ক্লাস নিলেই দায়িত্ব শেষ নয়
অধ্যক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেই দায়িত্ব শেষ করতে পারেন না। একজন শিক্ষার্থী বিষয়টি বুঝেছে কি না, কোথায় আটকে যাচ্ছে এবং কীভাবে তাকে সেই জায়গা থেকে বের করে আনা যায়, সেটিও শিক্ষকের দায়িত্বের অংশ।

image

এ কারণে নিয়মিত মূল্যায়নকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার মতে, পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু নম্বর দেওয়া নয়, শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করাই মূল্যায়নের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তোলে বলে মনে করেন তিনি।

বোর্ড পরীক্ষার অভিজ্ঞতা না থাকায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে:
এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা একটি বাস্তবতার কথাও উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।
এবার যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তাদের অনেকেই এর আগে জেএসসি বা পিএসসির মতো কোনো বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এসএসসিই ছিল তাদের প্রথম বড় বোর্ড পরীক্ষা।

অধ্যক্ষের মতে, সরাসরি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ফলাফলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এর আগে বোর্ড পরীক্ষার পরিবেশ, প্রশ্নপদ্ধতি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষার চাপ সামলানোর যে অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থী পেতে পারে, এবার অনেক শিক্ষার্থীর সেই সুযোগ ছিল না।
তবে এটিকে তিনি একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না। বরং এবারের প্রশ্নপদ্ধতির পরিবর্তনসহ আরও কিছু বিষয় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

প্রশ্নের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে
এবারের প্রশ্নের ধরন আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ছিল বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।
তার মতে, শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য যখন শুধু পাসের হার বাড়ানো থেকে গুণগত শিক্ষার দিকে যাচ্ছে, তখন প্রশ্নপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীরা শুধু মুখস্থ করেছে কি না, সেটি যাচাইয়ের পরিবর্তে তারা বিষয়টি বুঝেছে কি না, প্রয়োগ করতে পারছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এ ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

image
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত

‘শুধু সংখ্যা দিয়ে জাতি টিকতে পারে না’
সাক্ষাৎকারে শিক্ষার গুণগত মানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যক্ষ। তার মতে, আগে হয়তো শিক্ষার ক্ষেত্রে কতজন শিক্ষার্থী পাস করেছে, সেই সংখ্যাটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু একটি জাতির ভবিষ্যৎ শুধু পাসের সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা যদি শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ে, কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে না বোঝে, তাহলে সেই শিক্ষা দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি কাজে আসে না।
তাই এখন শিক্ষার্থীদের শেখার মান, বিষয় বোঝার সক্ষমতা এবং জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পড়াশোনা ছাড়া বিকল্প নেই’ এই বার্তা জরুরি:
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার ক্ষেত্রে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ।
তার মতে, শিক্ষার্থীরা যখন বুঝতে পারবে যে ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে যেতে হলে নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই, তখন তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ তৈরি হবে।

শুধু পরীক্ষার আগে বই খুলে পড়লেই হবে না। নিয়মিত পড়াশোনাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই বাস্তবতাটি বুঝতে হবে যে পড়াশোনা এড়িয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ভালো করা সম্ভব নয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কাছে যখন এই বার্তা পরিষ্কার হবে, তখন তারা নিজেদের প্রয়োজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।

অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে
শিক্ষার্থীদের ফলাফলের পেছনে অভিভাবকদের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে অধ্যক্ষের বক্তব্যে। তার মতে, একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শুধু বিদ্যালয় বা শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে না। বাসায় তার পড়াশোনার পরিবেশ, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ফলাফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীকে চাপ বা হতাশার মধ্যে না ফেলে কোথায় সমস্যা হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা দরকার। শিক্ষার্থীকে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

খারাপ ফল মানেই শেষ নয়:
এবার যারা আশানুরূপ ফল করতে পারেনি, তাদের উদ্দেশেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ভালো ফল না হওয়ায় হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের আবার নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো করতে পারবে।

অধ্যক্ষের মতে, একটি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটি চিহ্নিত করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই হবে সঠিক পথ।

অভিভাবকদেরও সন্তানদের হতাশ না করে তাদের পাশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জিপিএ-৫ কমেছে ৫৯ জন:
এদিকে এবার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার সামান্য বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
এবার ১ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৪৯ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৯ জন কমেছে।

এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ২ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৭৭৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৭২৩ জন।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৫৪১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২৪১ জন।

গত বছর ২ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তখন পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৫৪৯ জন।

সারাদেশের ফলাফলও তুলনামূলকভাবে কম:
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

দাখিলে এবার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৭৬ জন।
এসএসসিতে এবার ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

আগামী দিনের লক্ষ্য আরও ভালো ফল নয়, আরও ভালো শিক্ষার্থী তৈরি:
মতিঝিল আইডিয়ালের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ লক্ষ্যও উঠে এসেছে। তার কাছে ভালো ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে।

এ কারণে নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সহযোগিতা এবং গুণগত শিক্ষার ওপরই জোর দিতে চান তিনি।

তার বক্তব্যের সারকথা, একটি পরীক্ষায় কতজন পাস করল সেটি তাৎক্ষণিক সাফল্যের হিসাব দিতে পারে; কিন্তু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটা সফল, তার প্রকৃত মাপকাঠি হলো তারা কেমন শিক্ষার্থী তৈরি করছে। আর সেই জায়গায় পৌঁছাতে হলে পাসের হার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর