রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

হঠাৎ কেন আলোচনায় ইডেন কলেজ?

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

E
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে ইডেন মহিলা কলেজে শনিবার রাতে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা। ছবি- সংগৃহীত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ডাক। এমন দাবি আগেও উঠেছে বহুবার। নতুন করে সম্প্রতি সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রীদের একটি দল। এরপর শনিবার রাতে একই দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ইডেন মহিলা কলেজ।
   
এসময় কলেজের গেটের তালা ভেঙে একদল ছাত্রী বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়। ওই বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। 


বিজ্ঞাপন


1
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেন তিতুমীর কলেজের আবাসিক ছাত্রীরা। ছবি- সংগৃহীত

ছাত্রদল বলছে, ছাত্রশিবিরের ইন্ধনে ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধের’ দাবি তোলা হচ্ছে, কারণ তাদের ভাষায় ‘ছাত্রশিবিরের সমর্থকরা দলীয় পরিচয় গোপন করে’ দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

অন্যদিকে ছাত্রশিবির এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চান না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদলের ‘নানা অপকর্মের’ কারণেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সেই ক্ষোভ থেকেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের প্রসঙ্গ আসছে।

এর আগে গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছিল। তখনও উভয় সংগঠন একে-অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং বিভিন্ন কৌশলে ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করে।

ইডেন কলেজে কী হয়েছে?

শনিবার রাত ১১টার দিকে ইডেন মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে একদল ছাত্রী। একপর্যায়ে তারা হলের প্রধান গেটের তালা ভেঙে ফেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

3
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ইডেন কলেজে ছাত্রীদের বিক্ষোভের একটি মুহূর্ত। ছবি- সংগৃহীত

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন । কোনো কোনো ভিডিওতে দেখা গেছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াদের মধ্যে কয়েকজন সেখানে থাকা ছাত্রদলের পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছেন।

ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, কলেজের ছয়টি হল থেকেই ছাত্রীরা অনেকে এসে এই বিক্ষোভে অংশ নেন এবং তারা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তোলেন।

ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের কলেজের গেইটের সামনে ‘রাজনীতিমুক্ত’ শব্দগুলো লেখা ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সেটি ছাত্রদলের নেতারা মুছে ফেললে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন হল থেকে কিছু ছাত্রী এসে বিক্ষোভ শুরু করেন।’

তিনি জানান, পরে রাতে কলেজের শিক্ষকরা এসে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বহু বছর ধরে হলে আছেন কলেজের এমন কয়েকজন ছাত্রদল নেত্রীর হলে থাকার বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান। একই সঙ্গে কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিও জানান।

2
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়ে দেয়াল লিখন করেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি- সংগৃহীত

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ছাত্রদলের মধ্যে। রাত সোয়া একটায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পাতায় লেখেন, ‘কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আপনারা সবার রাজনৈতিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। আপনারা শিবিরের কূটচালের সামনে মাথা নত করবেন না। ধোঁকাবাজির শিকার হবেন না। অন্যথায়, সমগ্র দেশ থেকে গুপ্ত রাজনীতির অবসান ঘটানো হবে।’

জবাবে ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকের পাতায় লেখেন, ‘বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে। আর মতের সঙ্গে না মিললেই ‘গুপ্ত’ ট্যাগিং খেলার এক অপরিণামদর্শী রাস্তা তারা বেছে নিয়েছে। এই ট্যাগিং পলিটিক্সের কারণে তাদের কত বড় পতন নেমে আসতে পারে, তা তারা চিন্তাও করছে না।’

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি কেন

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছিল এবং সেসব মানববন্ধনের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই পরে শিবিরের নেতৃত্বে এসেছে।

9
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘তিতুমীর কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেলসহ অনেক জায়গায় এটি ঘটেছে। তিতুমীরে যিনি আন্দোলন করেছেন তিনি সেখানকার শিবিরের সভাপতি হয়েছেন। রাজশাহী মেডিকেলে ‘নো পলিটিক্স ইন ক্যাম্পাস’ আন্দোলনের নেতা হয়েছেন সেখানকার শিবিরের সভাপতি। এখন ইডেনেও সেই একই খেলা শুরু হয়েছে।’

নাছির বলেন, ‘শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য মব সৃষ্টি করেছিল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে, পরবর্তীতে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’

ছাত্রদল সম্পাদকের দাবি, ‘শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে। আবার তারাই গোপনে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি করানোর নাটক করে।’

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলছেন, ‘ছাত্রদলের নোংরা রাজনীতির জন্যই শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন।’

8
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘ইডেনে ১৬-১৭ বছর ধরে তাদের নেতারা সিট দখল করে রেখেছে। সেগুলো শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সেখানে শিবির নেই। আমরা চাই ছাত্ররাজনীতি থাকুক। তবে একটা কোড অব কন্টাক্ট থাকতে হবে যে, ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতি কেমন হবে।’

ছাত্রশিবিরের সভাপতির দাবি, ছাত্রদলের নোংরা রাজনীতির খেসারত পুরো ছাত্ররাজনীতির ওপর এসে পড়ছে এবং এজন্য শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ভীত হয়ে পড়েছে।

সাদ্দাম অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ না করে চাঁদাবাজি, স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারি এবং নিষিদ্ধ লীগকে কমিটিতে পুনর্বাসনসহ সারাদেশে কমিটি দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘর্ষের রাজনীতির কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, এর ফলে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবার রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের স্লোগান উঠেছে। এর দায় সম্পূর্ণ ছাত্রদলকেই নিতে হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর