বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই ৭ কলেজের পরীক্ষা, প্রশাসনের নীরবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

C
ঢোবি অধিভুক্ত সাত কলেজ। ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। 

প্রশ্ন ফাঁসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসার পরও ঢাবি কর্তৃপক্ষ ও সাত কলেজের অন্তর্র্বতীকালীন প্রশাসনের উদাসীনতায় পরীক্ষা বাতিল বা স্থগিত না করে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর সাতটি কলেজে একযোগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়নের মূলনীতি (কোর্স নম্বর ২০৮) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিন পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগেই প্রকাশ্যে আসে এবং এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও পরীক্ষার হলে আসা প্রশ্ন হুবহু এক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।


বিজ্ঞাপন


এর আগে সরকারি সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক তথ্য-প্রমাণ সামনে এসেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার তিন থেকে চার দিন আগে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে প্রশ্ন সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চললেও সম্প্রতি নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সজিব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন না করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু সাত কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। এতে প্রমাণ হয় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুতর সংকট হিসেবে না দেখে হালকাভাবে বিবেচনা করছে।

ফাঁসকৃত প্রশ্নের ওপর পরীক্ষা নেওয়া প্রশাসনিক উদাসীনতা কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টিকে উদাসীনতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই প্রশ্নফাঁসকে অনুমোদন করে না। বিষয়টি সামনে আসার পর সাত কলেজের প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করবে।

সংবাদ প্রকাশের পরও কেন পরীক্ষা নেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। যেহেতু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাই সাত কলেজ প্রশাসনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়বদ্ধতা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়বদ্ধতা থাকবে, তবে মূল জায়গা থেকে আগে প্রতিবেদন আসতে হবে।

এ বিষয়ে সাত কলেজের অন্তর্র্বতীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও তাদের। 

তিনি আরও বলেন, কেবল গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর