বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদন: শিক্ষার্থীদের বিজয় মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

M
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের খবরে বিজয় মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি- ঢাকা মেইল

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদিত হওয়ায় বিজয় মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অপেক্ষার পর অধ্যাদেশ অনুমোদনের খবরে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে স্থাপিত ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ থেকে বিজয় মিছিল বের করা হয়। 


বিজ্ঞাপন


মিছিলটি আজিমপুর মোড় ঘুরে পুনরায় ঢাকা কলেজের সামনে এসে শেষ হয়। এতে সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদন পায়। অধ্যাদেশের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

M2
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের খবরে বিজয় মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি- ঢাকা মেইল

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বিগত সময়ে নিয়মিতভাবে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ ছিল। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে শিক্ষা সিন্ডিকেটের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। 

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হবে।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মামুন বলেন, আবাসন ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও সাত কলেজে ভর্তি হতে বাধ্য হয়। শিক্ষার অচল ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভবিষ্যতে যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, তবে তা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাত কলেজকে নিয়ে চারটি ভিন্ন ক্যাম্পাসে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তৈরি ও সেখানে জমায়েতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। 

একই সঙ্গে জানানো হয়, চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি হলে বিজয় মিছিল এবং তা না হলে যমুনা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। সেই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঞ্চ থেকেই আজ বিজয় মিছিল বের করেন।

এম/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর