মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আগারগাঁওয়ে এক ছাদের নিচে সৌরপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সেবার প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আগারগাঁওয়ে এক ছাদের নিচে সৌরপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সেবার প্রদর্শনী

ছাদের অব্যবহৃত জায়গায় সৌরপ্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিয়ে আয় করার সুযোগ রয়েছে। এমন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগ্রহীদের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। 

এখানে একই ছাদের নিচে মিলছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির সরঞ্জামসমূহ, প্রকল্প স্থাপনের কারিগরি পরামর্শ, অর্থায়ন এবং সহজ শর্তে ঋণ সংক্রান্ত নানা তথ্য ও সেবা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ এক্সপোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি এবং উন্নত ব্যাটারির সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এসব সরঞ্জাম সরাসরি দেখার পাশাপাশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের প্রযুক্তিগত দিক ও সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন দর্শনার্থীরা।

প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি সহায়তার তথ্য দিচ্ছে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি, উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারছেন।

এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আয়োজনে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগও থাকছে।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব মূলধন ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পরিচালন ব্যয় ভিত্তিক বা ওপেক্স মডেলে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ না করেও ছাদের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ পাবে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ, নীতিগত সহায়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে এক্সপোর দুই দিনে চারটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

Solar

সেমিনারগুলোতে জাতীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের প্রসার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, আবাসিক ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কার্বন রাজস্বের মাধ্যমে সৌর খাতের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।

এক্সপোতে সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগ সম্পর্কেও জানার সুযোগ থাকছে। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ গ্রহণ করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রসারে সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন করও (মূসক) সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এসব নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রদর্শনীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারছেন আগ্রহীরা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ এক্সপোর আয়োজন করেছে। সৌরপ্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন তুলে ধরা, বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর