রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২১ বছরের ব্যবধানে একই স্থানে একই খাতের দুটি আয়োজনে প্রধান অতিথি হলেন মা ও ছেলে। ২০০৫ সালে এই সম্মেলন কেন্দ্রে সোলার হোম সিস্টেমের ৫০ হাজারতম স্থাপনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
দীর্ঘ ২১ বছর পর একই স্থানে সৌরবিদ্যুৎ খাতের আরেকটি আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করলেন তার ছেলে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিরল কাকতালীয় প্রেক্ষাপট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এ এক্সপোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় প্রদর্শনী। বুধবার (৪ নভেম্বর) পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।
২০০৫ সালে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ উদ্যোগে একই সম্মেলন কেন্দ্রে ৫০ হাজারতম সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার একই স্থানে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এক্সপোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ বছর আগে মা, আর এবার ছেলে একই স্থানে সৌরবিদ্যুৎ খাতের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ায় বিষয়টি পেয়েছে বাড়তি গুরুত্ব।
এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’। ছাদের অব্যবহৃত জায়গায় সৌরপ্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে এ প্রদর্শনীতে।
বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে চার সেমিনার
সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ, নীতিগত সহায়তা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক্সপোর দুই দিনে চারটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারগুলোতে জাতীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের প্রসার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, আবাসিক ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কার্বন রাজস্বের মাধ্যমে অর্থায়নের বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
এক্সপোতে সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগ সম্পর্কেও জানার সুযোগ থাকছে। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ গ্রহণ করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রসারে সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন করও (মূসক) সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এসব সুবিধা ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারছেন আগ্রহীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করেছে। সৌরপ্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন তুলে ধরা, বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোই এ এক্সপোর মূল লক্ষ্য।
এমআর/এআরএম




