মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনায় বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বিমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিমা পলিসি খোলা বা পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় বিএফআইইউ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গ্রাহক বিমা পলিসি নিতে পারবেন না। পাশাপাশি জটিল, অস্বাভাবিক বা আর্থিকভাবে অযৌক্তিক মনে হওয়া লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে তার তথ্য নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে। এ ধরনের তথ্য অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।
নীতিমালায় গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (সিডিডি) জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস থেকে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে এবং অর্থের উৎস যাচাই করতে হবে। পলিসি নবায়ন, আর্থিক লেনদেন বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে গ্রাহকের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
যদি কোনো গ্রাহকের পক্ষে অন্য ব্যক্তি পলিসি পরিচালনা করেন বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে তিনি আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কিনা, তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
বিএফআইইউ বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ধারার আওতায় সরকারি গেজেটে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যক্তি বা সত্তা হিসেবে গণ্য করা হবে।
বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বিমার ক্ষেত্রে আমদানি-রফতানি চুক্তি, ঋণপত্র (এলসি) নম্বর, তারিখ, মূল্য, আমদানিকারক ও রফতানিকারক দেশের নাম এবং পণ্যের বিবরণ যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে শিপিং ডকুমেন্টসহ অন্যান্য দলিল ব্যাংকের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বা সম্পত্তির বিমার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারধারী অথবা ২০ শতাংশ বা তার বেশি একক শেয়ারধারীকে প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করে তাদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রোকার, ট্রাস্টি ও পেশাদার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিচালিত পলিসির ক্ষেত্রে আইনগত বৈধতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পুনঃবিমার ক্ষেত্রেও মূল বিমাকৃত ব্যক্তি ও দাবিদারদের পরিচয় যাচাই করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা সত্তার অর্থ পুনঃবিমার মাধ্যমে ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে না পারে।
পলিসির আবেদনকারীর নাম, পেশা, জন্মতারিখ, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট বা অন্য কোনো ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিএফআইইউ আরও জানিয়েছে, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে একটি ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ গঠন করতে হবে। এ ইউনিট বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং বিএফআইইউর জারি করা সার্কুলার ও নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি করবে।
টিএই/এফএ




