রাজধানীর বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ ফলে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে ব্যতিক্রম ফল কলার দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
সরেজমিনে রাজধানীর নিউ মার্কেট বাজার ঘুরে দেখা যায়, আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর, ডালিমসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। ফলভেদে কেজিতে ৫, ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, ফলের দাম ওঠানামার পেছনে সরবরাহ পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয়, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ খরচসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করছে। আমদানি করা ফলের ক্ষেত্রে আমদানি-সংক্রান্ত ব্যয় ও সরবরাহের পরিবর্তনের প্রভাবও খুচরা বাজারে পড়ছে।
আরও পড়ুন: দাম চড়া, তবু চাঙা বাদামতলী ফলের বাজার
ফল বিক্রেতা রশীদ বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের ফলে কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তবে কলার দাম প্রায় একই আছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
দাম বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারাও। তাদের অভিযোগ, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ফল কেনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। একই পরিমাণ ফল কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
ক্রেতা সোহানুর রহমান বলেন, ‘আগে যে টাকা দিয়ে এক কেজি ফল কিনতাম, এখন একই ফল কিনতে বাড়তি টাকা লাগছে। কয়েকটি ফলে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।’
আরও পড়ুন: ফলের পাইকারি ও খুচরা দামে বিশাল তফাত
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়লেও বাজারে ফলের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। তবে অনেক ক্রেতা পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ বেশি দামের ফল বাদ দিয়ে তুলনামূলক সস্তা ফল কিনছেন।
এদিকে কলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। অন্যান্য ফলের দাম বাড়লেও কলার দামে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকায় কম বাজেটের ক্রেতাদের কাছে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে এবং বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের দামের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ফলের দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়বে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম/এমআই




