মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিদেশি ঋণ পরিশোধে নতুন রেকর্ড, ৫ মাসে ২০৪ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিদেশি ঋণ পরিশোধে নতুন রেকর্ড, ৫ মাসে ২০৪ কোটি ডলার
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পরিশোধ করা এ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪১ কোটি ডলার করে ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের অনেক ঋণের অবকাশকাল শেষ হওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণ নেওয়ার সময় অর্থের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল ও সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বড় আর্থিক দায় ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এসব দায় সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।

ইআরডির হিসাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬৭ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪৯ কোটি ডলারে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, আগের দেড় দশকে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, প্রত্যাশিত সুফল এবং ভবিষ্যৎ পরিশোধ সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতাদের কাছে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর