সভায় আলোচনা না করেই ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রফতানিমুখী পোশাকশিল্পে স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ দুটি সিদ্ধান্তই প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
আজবমঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যমন্ত্রী বরাবর দেওয়া এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা দুটি সিদ্ধান্ত সভার আলোচনার বাইরে ছিল।
বিষয়টি বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকা মেইলকে নিশ্চিত করেছেন।
সংগঠন দুটির মতে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও কমবে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে তারা বলেন, টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভা ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। তারা দুজনই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তাদের দাবি, সভায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অথচ কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের ৫ নম্বরের ‘ক’ উপধারায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির কথা বলা হয়েছে।
একই সিদ্ধান্তের ‘খ’ উপধারায় রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রয়োজনীয় সুতার অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে কেনার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সভা শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। তখন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ যৌথভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়। পরে তা মন্ত্রণালয়কে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছিল।
সভায় আলোচনা না হওয়া বিষয় কার্যবিবরণীতে সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সংগঠন দুটি। তাদের ভাষ্য, সিদ্ধান্ত দুটি বাস্তবতাবিবর্জিত ও আত্মঘাতী। এগুলো কার্যকর হলে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বন্ড ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। হঠাৎ বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার বা ডি-বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংগঠন দুটি বলেছে, বিশ্বের প্রতিযোগী দেশগুলো শিল্পের প্রসারে বন্ড সুবিধা চালু ও সম্প্রসারণ করছে। বিপরীতে বাংলাদেশে ডি-বন্ড ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমাবে।
চিঠিতে স্থানীয় সুতা বাজারের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্তমানে পোশাকশিল্পে রপ্তানি আদেশ কম। ফলে সুতার চাহিদাও তুলনামূলক কম। এরপরও স্থানীয় বাজারে সুতার দাম বাড়ছে।
এতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল পোশাক রপ্তানিকারকদের জিম্মি করে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো সক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করতে পারছে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় পোশাকশিল্পের স্বার্থে কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত নং ৫-এর ‘ক’ ও ‘খ’ জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
প্রয়োজনে এ বিষয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আবেদন জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এমআর/এআরএম




