মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সুগন্ধি চাল রফতানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সুগন্ধি চাল রফতানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের সুগন্ধি চাল রফতানির বরাদ্দ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এ অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রফতানি করতে পেরেছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অনুমোদিত ২৭৮ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আগের বরাদ্দের তুলনায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পরিমাণ সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবে। সংশোধিত সীমার বেশি চাল রফতানির সুযোগ থাকবে না।

কোটা কমানোর পাশাপাশি সুগন্ধি চাল রফতানিতে নজরদারি, জবাবদিহিতা ও রফতানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শর্ত অনুযায়ী, রফতানিকারকদের রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। অনুমোদন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না এবং সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে রফতানিও করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।

রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট বা পিআরসি দাখিলও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

খাদ্য নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রফতানির পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে সুগন্ধি চালের রফতানি পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি রফতানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর