সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

পণ্য নেই তবুও ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রফতানি, আটক ৫ চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পণ্য নেই তবুও ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রফতানি, আটক ৫ চালান
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কনটেইনারে কোনো পণ্য না থাকা সত্ত্বেও কাগজপত্র ও এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় প্রায় পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পণ্য রফতানি দেখানোর অভিযোগে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি রফতানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এসব চালানে মোট এক লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য এবং চার লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলারের রফতানি দেখানো হয়েছিল। তবে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনবিআর জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় রফতানি চালান যাচাইয়ের সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি চালান কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে চালানগুলোর গন্তব্য দেশ, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। এরপর চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।

দাখিল করা রফতানি বিল অনুযায়ী, এসব পণ্য ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো থেকে রফতানি হওয়ার কথা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে ঘোষিত পণ্য পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।

তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রফতানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রবেশই করেনি।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানায়, পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করলেও চালানগুলোর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হলো, সেই বিষয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

১২১ মেট্রিক টন পণ্য, বাস্তবে অস্তিত্ব নেই

আটক পাঁচটি রফতানি চালানে মোট এক লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য থাকার কথা দেখানো হয়েছে। এসব পণ্যের ঘোষিত রফতানিমূল্য প্রায় চার লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক অনুসন্ধানে পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই এসব চালানের বিপরীতে রফতানি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরই চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে।

গন্তব্য ও পণ্যের পরিমাণেও অসঙ্গতি

কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক বিশ্লেষণে পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রফতানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, ঘোষিত রফতানি পণ্যের পরিমাণ স্বাভাবিক উপকরণ-উৎপাদন অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পণ্য ছাড়াই কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে?

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, রফতানি পণ্য সংশ্লিষ্ট কনটেইনার ডিপোতে প্রবেশের পর প্রয়োজনীয় কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রফতানি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এই পাঁচটি চালানের ক্ষেত্রে পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, ঘটনায় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ডিপো কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য কাস্টমস আইন ও অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর