শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মাছ-মাংসের দামে নাভিশ্বাস, বাজারের তালিকা কাটছাঁট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

মাছ-মাংসের দামে নাভিশ্বাস, বাজারের তালিকা কাটছাঁট
নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচের সঙ্গে মাছ-মাংসের ব্যয় সামলাতে গিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার। ছবি: ঢাকা মেইল

রাজধানীর বাজারে চড়া মাছ-মাংসের দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচের সঙ্গে মাছ-মাংসের ব্যয় সামলাতে গিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার। ফলে পছন্দের মাছ বাদ দিয়ে কম দামের মাছ কেনা কিংবা মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে মাছ-মাংসের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পাবদা মাছ আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইলিশ ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। কই মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ থেকে ২৮০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

769374867_2106272663295722_129665973141713782_n_20260814_113514748

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাচকি ৬০০ টাকা এবং টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও কমেনি দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে।

রাজধানীর শনিরআখড়া কাঁচাবাজারে মাছ কিনতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, ‘মাছ কিনতে এসে প্রতিদিনই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ মাছ কিনতাম, এখন সেই পরিমাণ কিনতে পারছি না। পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে গেলে মাসের অন্য খরচ কমাতে হয়।’

10_20260227_114822404

যাত্রাবাড়ী আড়তে মাছ কিনতে আসা সুমন ঘোষ বলেন, ‘ইলিশ, চিংড়ি, পাবদাসহ ভালো মাছের দাম অনেক বেশি। মাছের দাম শুনেই অনেক সময় পছন্দের মাছ বাদ দিয়ে কম দামের মাছ নিতে হচ্ছে। মানুষের আয় তো সেভাবে বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ বেড়েই চলেছে।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকা। এই দামে নিয়মিত মাংস কেনা সম্ভব নয়। মাছের দামও কম নয়। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস ধীরে ধীরে বাদ পড়বে।’

বিক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম নির্ভর করছে সরবরাহ, আকার, মান ও মৌসুমের ওপর। বড় মাছের সরবরাহ কম থাকায় সেগুলোর দাম বেশি। পাশাপাশি পরিবহন ও বাজারজাতকরণ খরচও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

9_20260227_114811948

ক্রেতাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়ে মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা দরকার। তাদের মতে, আয় না বাড়িয়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

এমআর/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর