শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মাছ-মাংসের বাজারে মধ্যবিত্তের হাঁসফাঁস, অদৃশ্য সিন্ডিকেটের থাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ এএম

শেয়ার করুন:

মাছ–গরুর দামে নেই স্বস্তি, গরিবের ভরসা পোল্ট্রিতে
মাছ–গরুর দামে নেই স্বস্তি, গরিবের ভরসা পোল্ট্রিতে

‎রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে মাছ-মুরগির দাম। আবার কখনও মুরগির মাংসের দাম ওঠানামা করলেও গরুর মাংস স্থিতিশীল থাকে বলছেন ক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার নিচে নেই। অন্যদিকে জনপ্রিয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও চিংড়ির দামও বেড়েছে কয়েক ধাপ।

‎শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, কারওয়ান বাজার, ঝিগাতলা বাজার ও হাতিরপুল কাঁচা বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

‎ঝিগাতলা,কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুরের বাজারে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় একটি সিন্ডিকেট বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে। তাদের দেওয়া দাম অনুযায়ী খুচরা বাজারের ক্রেতারা দাম রাখতে বাধ্য হয়। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে বিশাল ব্যবধান থাকে। এই সিন্ডিকেট কারা চালায় তা সংশ্লিষ্টদের কখনও স্ব-উদ্যোগে চিহ্নিত করতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা। শুধুমাত্র বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেই সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর এর প্রভাব পড়ে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

‎মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মাসে কয়েকবার দেশি মুরগি কিনতাম, এখন সেটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। ব্রয়লারের দাম প্রতিনিয়ত বাজারে ওঠানামা করছে, বাজার গরম থাকে সবসময়। মাছ কিনতে গেলেও গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। বাজারের নিত্যপণ্যের দামের সাথে আয়-রোজগারের কোনো মিল নেই। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যানারে দাঁড়িয়ে এসব লুটপাট করলেও সরকার তাদের কখনও চিহ্নিত করতে পারে না।

MP

‎ঝিগাতলা বাজারের আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে আসলে সব সময় আগে দেখি কোন পণ্যের দাম কম। সেই পণ্য আগে কেনার চেষ্টা করি। কখন যে দাম বেড়ে যায় এই আতঙ্কে থাকতে হয়। যে স্বল্প বেতন পাই। তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চালাই। তাও মাঝে মধ্যে টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কম টাকায় পণ্য বাসায় কিনে নিয়ে যাই। লাগামহীন বাজারে আমরা কথা বলে কোনো লাভ নাই। আমদের কথায় কিছু যায় আসে না। সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। এমন অসহায় অবস্থায় আমরা কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে দিন পার করি।


বিজ্ঞাপন


‎এদিকে, বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই দামের তারতম্য হচ্ছে। খামারিরা ফিড, পরিবহন খরচ এবং উৎপাদন ব্যয়ের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ফলে খুচরা পর্যায়ের ক্রেতাদের ওপরই চাপ পড়ছে।

‎রাজধানীর টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া জানালেন, আগে যেখানে প্রতিদিন ১৪০-১৫০ টাকা কেজি মুরগি বিক্রি হতো। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৪০-৫০ টাকা কেজি প্রতি বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা এক কেজির বদলে আধা কেজি মুরগি কিনছেন। আমাদের বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী আমরা পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে পেলে তা কম দামে বিক্রি করতে পারতাম।

‎ঝিগতলা কাঁচাবাজারের আরেক ব্যবসায়ী মোদাসসের আলী বলেন, আমরা ঘাট থেকে মাছ কিনতে গেলে আমাদের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করে না। আড়তের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আমাদের মাছ কিনতে হয়। তখন মাছের দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। বাজারে আসার পর ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখায়। আমরা চাইলেই আমাদের মন মতো দাম কমিয়ে রাখতে পারি না। এতে আমাদের লোকসান হয়। সরকার বাজারে থাকা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের দাম কমবে না।

একেএস/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর