রাজধানীর বাজারে মাছের দামে স্বস্তি নেই। দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় চড়া দাম, একই সঙ্গে চাষের মাছের দামও বেড়েছে। ফলে মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই মাছের বাজারে গিয়ে পছন্দের মাছ না কিনে কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকারও বেশি। অন্যদিকে চাষের মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও সেগুলোর দামও আগের তুলনায় চড়া।
বাজারে দেশি পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০, শিং ৭০০ থেকে ৯০০, মাগুর ৭০০ থেকে ৯০০, কৈ ৫০০ থেকে ৭০০, শোল ৮০০ থেকে ১ হাজার, বোয়ালি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০, টাকি ৫০০ থেকে ৭০০, চিতল ৮০০ থেকে ১ হাজার এবং গুলশা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। কাচকি মাছও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। ইলিশের দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
চাষের মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বাজারে চাষের রুই ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৫০০, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৮০, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ৩০০, চাষের কৈ ৩৫০ থেকে ৪৫০, শিং ৪৫০ থেকে ৬০০ এবং মাগুর ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম মান ও আকারভেদে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘ছোটবেলায় গ্রামে অনেক দেশি মাছ খেয়েছি। তখন এসব মাছ সহজেই পাওয়া যেত। এখন ঢাকায় এসে দেশি মাছ খেতে গেলে আগে দাম শুনতে হয়। পাবদা, টেংরা, শিং বা মাগুরের দাম শুনলেই অনেক সময় কিনতে ইচ্ছা করলেও কিনতে পারি না।’
আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আগে দেশি মাছের বদলে চাষের মাছ কিনে কিছুটা কম খরচে বাজার করা যেত। এখন পাঙাশ বা তেলাপিয়া ছাড়া অন্য মাছ কিনতে গেলেও বেশ টাকা লাগে। সংসারের অন্য খরচ সামলে মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: বাজার চড়া, ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি
বিক্রেতারা বলছেন, দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ে আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। ফলে আড়তে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে তাদের।
রাজধানীর শ্যামবাজারের মাছ বিক্রেতা সামিউল ইসলাম বলেন, ‘দেশি মাছ খুব বেশি আসে না। আড়তে যে দামে কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়। তাই খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না।’

চাষের মাছের দাম বাড়ার বিষয়ে আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘মাছের খাবার, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। এসব কারণে চাষের মাছের দামও আগের মতো নেই। কম দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান হবে।’
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজি, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়তি। ফলে পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে অনেকেই মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন।
এক ক্রেতা বলেন, ‘মাছ এখন প্রতিদিনের খাবার হলেও প্রতিদিন কেনার মতো অবস্থা নেই। দেশি মাছ তো প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাষের মাছ কিনেও যদি বেশি টাকা খরচ হয়, তাহলে সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন।’
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ানো গেলে দাম কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি চাষের মাছের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমানো না গেলে এসব মাছের দামও দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। ফলে মাছের বাজারে আপাতত স্বস্তির চেয়ে বাড়তি দামের চাপই বেশি অনুভব করছেন ক্রেতারা।
এমআর/এআরএম




