ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট ঘোষণার একদিন পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। অনেকের ধারণা ছিল বাজেটের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তাৎক্ষণিক ওঠানামা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই বজায় রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলছেন, অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে, কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বা হ্রাস চোখে পড়েনি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মাছ-মাংসের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় এবং পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সবজির মধ্যে পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা, সাদা বেগুন ৭০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লেবুর হালি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডজনপ্রতি ডিমের দাম মানভেদে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
মাছের বাজারেও দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫৪০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কেনাকাটা করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজেট ঘোষণার পর বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বিক্রেতারাও বলছেন, নতুন বাজেটের প্রভাব খুচরা বাজারে পৌঁছাতে সাধারণত কিছু সময় লাগে। তাই এখনই দাম বাড়া বা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
শামীমা আহমেদ নামে এক নারী ক্রেতা জানান, বাজেটে আমাদের প্রত্যাশা ছিলো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। তবে আশা করি সরকার সেই পথে হাঁটবে। অন্যথায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বাজেটে কর-শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব বাজারে পড়তে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আপাতত বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দামও স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া মৌসুমী সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বাজেট-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীর বাজারে স্বস্তির চিত্রই দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা না থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এমআর/এফএ




