রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

Muktadir

দেশের চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বড় আকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রফতানি আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, চামড়া খাতকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত হতে পারে। তবে এজন্য পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, সঠিক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গঠিত টাস্কফোর্সের নবম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


মন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া শিল্পে প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে এই খাতকে কাজে লাগানো গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। বিনিয়োগের সুযোগ এখানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, কারণ তুলনামূলক কম খরচে বড় পরিসরে উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, অতীতে চামড়া খাতের সম্ভাবনা অনেকাংশে কাজে লাগানো যায়নি। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক কারখানা এখনো পুরোপুরি সাভারে স্থানান্তরিত হয়নি, ফলে উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় জটিলতা রয়ে গেছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া পণ্য সঠিক মূল্য না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো কমপ্লায়েন্স ঘাটতি। বিদেশি ক্রেতারা পরিবেশ ও মানদণ্ড নিশ্চিত না থাকলে পণ্য কিনতে আগ্রহী হন না। তাই পরিবেশ রক্ষা করে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এটি আরো কার্যকর করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


মন্ত্রী বলেন, এই খাতে যদি ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে ৫০০ থেকে ১০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব। তুলনামূলকভাবে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ হলেও কর্মসংস্থান কম হয়, কিন্তু চামড়া শিল্প শ্রমনির্ভর হওয়ায় এখানে বিপুল মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় ক্রেতারা বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা দাবি করেন, অনেক স্থানে বনভূমি দখল করে ট্যানারি স্থাপন করা হয়েছে— এ ধরনের ধারণা দূর করতে সরকারি পর্যায়ে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও রিসাইক্লিং খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টসের পর চামড়া শিল্প বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। তবে এই খাতকে এগিয়ে নিতে হলে পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।


এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর