রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

সিন্ডিকেটের দাপট আর মিডিয়া ট্রায়ালে খামার ছাড়ছেন উদ্যোক্তারা!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:২১ এএম

শেয়ার করুন:

সিন্ডিকেটের দাপট আর মিডিয়া ট্রায়ালে খামার ছাড়ছেন উদ্যোক্তারা!

•    এক বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে খাদ্যের দাম
•    এক দিনেই বারবার বদলাচ্ছে পশুখাদ্যের দাম 
•    দীর্ঘদিন লোকসানে টিকতে পারছেন না উদ্যোক্তারা
•    খামারিদের দাবি, আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে গরুর খামার
•    দেশে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী 

দেশের গবাদি পশুর ব্যবসায় গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে গোখাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাজার নিয়ন্ত্রণে কথিত সিন্ডিকেটের দাপট, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসা, সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক মিডিয়া ট্রায়াল।  
 
এক সময় যে খাতে শিক্ষিত তরুণ, করপোরেট পেশাজীবী ও বড় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ নিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন, এখন তাদের অনেকেই ধীরে ধীরে এই খাত থেকে সরে যাচ্ছেন। অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক উদ্যোক্তা নতুন করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন, আবার কেউ কেউ ইতোমধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে অন্য খাতে চলে গেছেন। খামারিদের দাবি, এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের ক্যাটল শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।


বিজ্ঞাপন


খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্যের বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। অল্প সময়ের ব্যবধানে খাদ্যের দাম কয়েক দফা বাড়ছে। একই সঙ্গে ঘাস, ভুসি, খৈল, ওষুধ, ভিটামিন ও শ্রমিক ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে একটি গরু প্রস্তুত করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক খামারি কাঙ্ক্ষিত বিক্রি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বিভিন্ন কারণে গত পাঁচ বছরে গরু পালন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। 

image

খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শিল্পটির জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। গরুর দাম, খামারের পরিবেশ বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অনলাইনে বিতর্কের আশঙ্কায় অনেক উদ্যোক্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। এমনকি ক্রেতাদের মধ্যেও এক ধরনের সংকোচ তৈরি হয়েছে। অনেকেই খামারে গিয়ে ছবি বা ভিডিও প্রকাশ হোক, তা চান না।

খামারিরা বলছেন, সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবও বড় সমস্যা। উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজার নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাত উন্নয়ন এবং সহজ ঋণসুবিধা নিশ্চিত না হলে এই খাত দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হবে। ক্যাটল শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার পরিবার জড়িত। তাই এই খাতকে শুধু ব্যবসা হিসেবে নয়, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।


বিজ্ঞাপন


গত বছর যে খাদ্য ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, এই বছর সেই একই খাদ্য ৩৮০০ থেকে ৩৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শুধু খাদ্য নয়, ঘাস, ভুসি, খৈল, ভিটামিন, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। শ্রমিক ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ। আগে যে রাখাল ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় কাজ করতেন, এখন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার নিচে কাজ করতে চান না। বাণিজ্যিক বিদ্যুতের বিল কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পশুচিকিৎসার ব্যয় বেড়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি কেজি গমের খোসা (চেলটি) ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, খুদ ৫৫ টাকা, ভাঙানো ভুট্টা ৪৫ টাকা ও ভাঙানো গম ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি আঁটি ঘাস ২০ টাকা, কাঁঠাল পাতা ২০ টাকা, বিছালি ৬ থেকে ৭ টাকা ও ধানের গুঁড়া ২০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। 

image

খামারিরা জানিয়েছেন, একটি গরুকে কোরবানির উপযোগী করতে তাদের চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। এই সময়ে প্রতিদিন খাবার দিতে হয়, চিকিৎসা দিতে হয়, পরিচর্যা করতে হয়। একটি বড় গরু তৈরি করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু যখন সেই গরুর দাম বলা হয়, তখন অনেকেই বেশি দামের জন্য প্রশ্ন তোলেন। কেউ জানতে চান না, এই গরুর পেছনে চার-পাঁচ বছরের শ্রম, সময়, বিনিয়োগ ও ঝুঁকি কতটা ছিল। একটা গরু যদি অসুস্থ হয়ে যায় বা মারা যায়, সেই ক্ষতির পুরো দায় খামারিকেই নিতে হয়। ২০টি গরুর মধ্যে কয়েকটি অসুস্থ হওয়া বা মারা যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু সেই ক্ষতির হিসাব কেউ করে না। বছরের পর বছর বিনিয়োগ করে একজন খামারি যখন কাঙ্ক্ষিত দাম পান না, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার আগ্রহ কমে যায়।

ক্রেতারা বলছেন, কোরবানির বাজারে এবার গরুর দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনেকেই জানান, একই ধরনের গরুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় নির্ধারিত টাকার অংকের মধ্যে কোরবানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দরকষাকষির সুযোগ কম থাকায় কেনাকাটার সময় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ আরও বলেন, খামারে ছবি বা ভিডিও না করার অনুরোধ অনেক জায়গায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা স্বাভাবিক কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে। 

গরু ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর তিনি খামারে এসে গরু কেনেন, তবে এবার এসে দেখছেন দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগও কমে গেছে। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আগের মতো নেই, তাই বড় গরুর দিকে আগ্রহ কমে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান এসেছেন গরু দেখতে। পছন্দ হলে বাবাকে নিয়ে গরু কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগে পরিবার নিয়ে খামারে এসে কোরবানির গরু কেনা আনন্দের বিষয় ছিল। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে। খামারে গিয়ে দাম নিয়ে অনেক হিসাব করতে হচ্ছে এবং ক্রেতা হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে। খামারিদের দাবি অনুযায়ী উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি।

বাবার সঙ্গে খামারে এসেছেন শিরিন আক্তার। তিনি বলেন, তাদের পরিবার এবার বাজেট অনুযায়ী ছোট গরু কেনার পরিকল্পনা করছে। বড় গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ দাম অনেক বেশি। বিভিন্ন খামারে একই গরুর দাম ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় ন্যায্য মূল্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।  

 

 

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের ত্রিমোহিনী ব্রিজসংলগ্ন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা সামারাই ক্যাটল ফার্ম লিমিটেড। সেখানেও লালন-পালন করা হচ্ছে কোরবানির গরু। রাজধানীর এই ফার্মের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ওয়াহিদুজ্জামান খান ঢাকা মেইলকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কোরবানির বাজার পুরোপুরি খারাপ বলা যাবে না, তবে বাজারের গতি আগের তুলনায় কমে গেছে। বিশেষ করে বড় গরুর চাহিদা অনেকটাই ধীর হয়ে গেছে। এখন ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে ঝুঁকছেন। তবে চাহিদা থাকলেও খামারিদের মধ্যে স্বস্তি নেই, কারণ উৎপাদন ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে বিক্রি হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া যাচ্ছে না।

ওয়াহিদুজ্জামান খান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। আগে অনেক ক্রেতা শখ করে বড় গরু কিনতেন, পরিবার নিয়ে খামারে আসতেন, ছবি তুলতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতেন। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। অনেক ক্রেতা সরাসরি জানিয়ে দেন, খামারে ভিড় থাকলে বা ছবি-ভিডিও করার সুযোগ থাকলে তারা আসবেন না। এতে ক্রয়প্রক্রিয়াতেও এক ধরনের চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

খামারের এই ব্যবস্থাপক বলেন, বাস্তবতা হলো খামারকে ঘিরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, খামারে ছবি বা ভিডিও করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বা বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এই ভীতি শুধু ক্রেতাদের মধ্যে নয়, খামারিদের মধ্যেও কাজ করছে। এখন সাংবাদিকদের ফোন পেলেও অনেক খামারি আগে ভাবেন, তাদের বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন হবে, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হবে কি না।

ওয়াহিদুজ্জামানের মতে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে যেভাবে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়, তাতে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই খাতে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। অনেকের ওপর পরিবার থেকেও চাপ আসে এই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। কারণ কেউ চায় না তার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত সম্মান অকারণে বিতর্কের মধ্যে পড়ুক। আগে যারা শত শত গরু নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করতেন, তাদের অনেকেই এখন এই খাত থেকে সরে গেছেন। কেউ বিদেশে চলে গেছেন, কেউ অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন, আবার কেউ খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

IMG_20260516_234615
সবচেয়ে বড় সংকট এখন গোখাদ্যের সিন্ডিকেট।  সকাল, বিকেল ও রাতে দাম পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই।

 

গোখাদ্যের বাজার নিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সবচেয়ে বড় সংকট এখন গোখাদ্যের সিন্ডিকেট। সকাল, বিকেল ও রাতে দাম পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই। এতে খামারিদের উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে যাচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়া, বাজারে অনিশ্চয়তা এবং আস্থার সংকট একসঙ্গে ক্যাটল শিল্পকে চাপে ফেলেছে। দ্রুত স্থিতিশীল ব্যবস্থা না এলে এই খাতে আরও সংকট বাড়তে পারে।

‎বসিলা এলাকায় দ্যা নিউ ক্যাটেলের আরেক খামারি আনিসুজ্জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখলাম, ঈদে মাঝারি গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তাই এবার আমাদের খামারে মাঝারি আকারের বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা মাঝারি সাইজের গরু অগ্রিম বুকিং দেওয়া শুরু করেছেন। ক্রেতারা এসে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর খোঁজ করছেন বেশি। আমরা বড় গরুর পাশাপাশি মাঝারি গরুও তুলেছিলাম। আশা করছি মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় গরুর চাহিদাও থাকবে। ‎

খামারি আনিসুজ্জামান বলেন, অনেক সময় একটি গরু আমরা একটি নির্দিষ্ট দাম ধরে প্রস্তুত করি। বাজারে নিয়ে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে আবার এক বছর সেই গরু পালন করতে হয়। সেই এক বছরে আবার লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। পরের বছর সেই গরুর দাম বাড়লে মানুষ প্রশ্ন তোলে কেন দাম বেড়েছে। কিন্তু কেউ বুঝতে চায় না, অতিরিক্ত এক বছরের খাবার ও পরিচর্যার খরচ কে বহন করেছে। 

সরকারি সহায়তার অভাবের কথাও তুলে ধরে এই খামারি বলেন, খামারিদের জন্য কার্যকর কোনো প্রণোদনা নেই, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেই, উন্নত জাত নিয়ে কাজ করার স্বাধীনতাও সীমিত। অথচ বিশ্বের অনেক দেশ উন্নত ব্রিড, আধুনিক প্রযুক্তি, ভ্রূণ প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে তাদের পশুসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে অনুদান চাই না। আমরা চাই নীতিগত সহায়তা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের সুযোগ, সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। যদি এসব নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তরুণরা আবার এই খাতে আসবে, নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। 

image

নিরালা ক্যাটেল ফার্ম নামে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে আরেকটি খামারে গিয়েও দেখা গেছে, অনেকে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশই বুকিং করে রেখে যাচ্ছেন খামারেই। খামারের কর্মী আজহারুল ইসলাম জানান, এই ফার্মে গরু, ছাগল এবং ভেড়া মিলে প্রায় ৪০০ পশু আছে। ক্রেতারা যেহেতু কেনার পর আমাদের কাছেই রেখে যেতে পারছেন, এ কারণে তারা হাট বাদ দিয়ে ফার্ম থেকে পশু কিনেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।

সামারাই ক্যাটল ফার্মের মালিক ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেন বলেন, বাজারে এবার কোরবানির গরুর সংকট থাকবে, দামও বেশি হবে। গরুর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। পাশাপাশি গরু ঢাকায় নিয়ে আসতে পরিবহন খরচ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। গরুর যে রাখাল আনা হয়, তাদের মজুরিও বেশি। সবকিছু হিসাব করলে আগে যে মাঝারি সাইজের একটি গরু যেখানে এক লাখ থেকে কিছু বেশি বিক্রি হতো, সেটি এখন দেড় লাখের মতো পড়বে।

এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের প্রস্তুত করা পশু দিয়েই এবার কোরবানি সম্পন্ন হবে। এ জন্য প্রায় এক কোটির বেশি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশে কোরবানির জন্য যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও ভেড়ার প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না।

এএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর