দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, গৃহস্থালি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ও শিল্পখাতে এলপিজির ব্যবহার বিস্তৃত হচ্ছে, তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সমন্বয় যথাযথভাবে এগোচ্ছে না, যা ঝুঁকি তৈরি করছে।
রোববার (১৭ মে) রাজধানীর রমনায় এলপিজি খাত বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
জালাল আহমেদ বলেন, দেশে সিএনজির মূল্য দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল থাকায় এলপিজির ব্যবহার যেভাবে বাড়ার কথা ছিল, সেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবে এখন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক দোকানপাট এবং শিল্পখাতে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আবাসিক ভবনগুলোতে একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এলপিজি খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং মানসম্মত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অভাব। বিস্ফোরক অধিদফতরের সেবায় ধীরগতি, প্রশিক্ষণ ঘাটতি এবং নীতিমালার দুর্বল বাস্তবায়ন এই খাতকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আগেভাগে পরামর্শ করা জরুরি, যাতে পরে বারবার সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
তিনি মনে করেন, শুরুতেই সমন্বিত পরিকল্পনা নিলে নীতিগত জটিলতা কমে আসবে এবং খাতটি আরো স্থিতিশীল হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি এলপিজি খাতে জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন চালুর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য সরকারি প্রকল্প এবং শিল্প খাতের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স পদ্ধতির মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রশিক্ষক দল তৈরি করা গেলে এটি ধাপে ধাপে পুরো খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এলপিজি পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদকদের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো শৃঙ্খলিত করা গেলে ঝুঁকি কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও আরো নিরাপদ হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই নিরাপত্তা মান উন্নয়ন এখন জরুরি।
সভায় বক্তারা বলেন, এলপিজি খাতের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
এএইচ/এফএ




