মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকারকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তৃতায় এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেট ও রিজার্ভ উভয়ের ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে। সরকার এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেওয়াসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি জানান, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার এখনো পর্যন্ত মূল্য পূর্ণ সমন্বয় না করে আগের দামই বহাল রেখেছে। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার।
গত ১৫ বছরে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে দাবি করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৮ দশমিক ২ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বাড়ে ১১১ টাকায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১২১ টাকায়। ক্রমাগত অবমূল্যায়নের কারণে গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে তা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এখন তা ৩০ শতাংশের ওপরে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত সংজ্ঞাকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে ভুলভাবে প্রদর্শন করে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত চিত্র গোপন করা হয়েছে।’
এমআইকে/এমআই




