আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমন তথ্য দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে মূলধন ফেরাতে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের লক্ষ্য। সেই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।’
আরও পড়ুন: মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল জনজীবন
দায়িত্বগ্রহণের ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল এবং এলএনজির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। তবে জনগণের কথা মাথায় রেখে ভর্তুকি দিয়ে হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেনি সরকার। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে-এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সরকার।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের সময় রাজস্ব আদায়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি ছিল। ব্যয়ের বড় খাত ছিল মেগা প্রকল্পগুলো তাই বিনিয়োগের সুফল পায়নি জনগণ।
বিজ্ঞাপন
অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘বিএনপি সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে।’
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার লাগামহীন দুর্নীতি করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এরমধ্যে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে। এক দশকে কৃষিখাতে মূল্য সংযোজন কমেছে ৪ শতাংশ, তবে কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০০১-২০০৬ এ সঞ্চয় এবং বিনিয়োগে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছিল। ২৩-২৪ সালে এ চিত্র উল্টো। বিনিয়োগ সঞ্চায়কে ছাড়িয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করেছে। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বাজেট ঘাটতি বেড়েছে তা নয়, এর মানও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্পে এ যাচাই সঠিকভাবে করা হয়নি। মেগাপ্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল জনগণ ভোগ করতে পারেনি। লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকারি ঋণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা এবং উচ্চসুদের ব্যয় বাজেটে চাপ ফেলেছে।’
মাথাপিছু আয়ের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক আছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে যাওয়ায় বেড়েছে আমদানি ব্যয়। যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের কারণে রেমিট্যান্স সঠিকভাবে পায়নি দেশ। সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন সব অর্থনৈতিক সূচক নিম্নগামী দেখতে পাই।’
এমআই




