বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। রোববার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শ্রম ইস্যু এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়।


বিজ্ঞাপন


মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, এগ্রি অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, কমার্শিয়াল অ্যাটাশে পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অফিসার শ্রীনি সীতারাম এবং শ্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইফুজ্জামান মেহরাব।

বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং সাবেক পরিচালক আ ন ম সাইফ উদ্দিন।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শুল্ক ছাড়ের মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্টীকরণের অনুরোধ জানানো হয়। সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।


বিজ্ঞাপন


রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জবাবে বলেন, বিষয়টি বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এই বিশেষ সুযোগ পেয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের তুলা রপ্তানি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান ঘন ঘন ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক বিভ্রান্তির বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিগগিরই স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি স্বল্প মেয়াদে এলএনজি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

বৈঠকে শ্রম আইন ও প্রস্তাবিত নতুন শ্রম অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রম খাতের সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ১৪৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন।

এছাড়া বৈঠকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা প্রদানের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বাংলাদেশে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের অধীনে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক ‘লিড’ সনদপ্রাপ্ত কারখানা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বড় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ ও মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

টিএই/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর