শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, অদৃশ্য চাপে ক্রেতা-বিক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

শেয়ার করুন:

fisj and brief sell
মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত, অদৃশ্য চাপে ক্রেতা-বিক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত

মাছ-মাংসের দামে আপাতদৃষ্টিতে নড়াচড়া নেই—রুই-কাতল ৩৫০–৫৫০, ইলিশ ৫০০–১ হাজার ৮০০, গরু ৭৫০–৮০০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৬০, সোনালি ১৮০–২০০ টাকা। দাম স্থির থাকলেও ক্রেতার ব্যাগ, বিক্রেতার হাল এবং বাজারের ভাব কিছুতেই স্থির মনে হচ্ছে না। 

এই স্থবিরতার মধ্যেই ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে মানুষের কেনাকাটার রুচি, সংসারের হিসাব এবং বাজারের গতিশীলতা। কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাছ-মাংসের বাজারে এই দামের তালিকা প্রায় অপরিবর্তিত।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। কাগজে কলমে দাম স্থিতিশীল। কিন্তু বাজারে হাঁটলে সেই স্থিতিশীলতার স্বস্তি চোখে পড়ে না।

ক্রেতারা বলছেন, দাম না বাড়লেও জীবনযাত্রার অন্য খরচ বাড়ায় মাছ-মাংস আগের মতো আর সহজ মনে হচ্ছে না। এক গৃহকর্তা জানান, দাম তো একই আছে, কিন্তু আয় তো বাড়েনি। আগে যে পরিমাণ কিনতাম, এখন সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না।

বাজারে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা আগের মতো দোকান ঘুরে মাছ বা মাংস বাছাই করছেন না। বরং দ্রুত হিসাব কষে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিনে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার পুরোপুরি মাছ-মাংস না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়াও একই রকম চাপের। এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘দাম বাড়লে মানুষ অভিযোগ করে, দাম কমলে বিক্রি বাড়ে। কিন্তু এখন দাম একই আছে, তবু বিক্রি বাড়ছে না। সারাদিন বসে থাকি, কিন্তু আগের মতো হাত ঘোরে না।’

মাংস বিক্রেতাদের ভাষ্য, গরুর মাংসের দাম ৭৫০–৮০০ টাকায় স্থির থাকলেও ক্রেতারা আধা কেজির নিচে কিনছেন বেশি। আগে যেখানে এক কেজি স্বাভাবিক ছিল, এখন সেটাই ব্যতিক্রম হয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাজারের এক ধরনের নীরব স্থবিরতা। দামের ওঠানামা না থাকলেও যখন মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, তখন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এতে বাজার ‘স্থিতিশীল’ দেখালেও বাস্তবে চাপ জমতে থাকে।

তাদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে স্থায়ী পরিবর্তন আসতে পারে। মাছ-মাংস নিয়মিত খাদ্যের জায়গা হারিয়ে ধীরে ধীরে “বিশেষ দিনের খাবার”-এ পরিণত হতে পারে।

মাছ-মাংসের বাজার তাই এখন আর দামের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। এটা হয়ে উঠেছে আয়, ব্যয় আর জীবনের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার প্রতিদিনের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। 

এমআর/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর