বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এলসি খোলায় উল্লম্ফন, নিষ্পত্তিতে ধীরগতি

মুহা. তারিক আবেদীন ইমন
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ এএম

শেয়ার করুন:

এলসি খোলায় উল্লম্ফন, নিষ্পত্তিতে ধীরগতি
এলসি খোলায় উল্লম্ফন, নিষ্পত্তিতে ধীরগতি
  • ভোগ্যপণ্যের এলসি বেড়েছে, কাঁচামালেও বেড়েছে সামান্য
  • যন্ত্রপাতিতে বড় উল্লম্ফন
  • নিষ্পত্তিতে মিশ্র চিত্র
  • কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে বাজারে

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয় বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা কমেছে ডলারের সংকট। এর প্রভাবে ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতিতে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে। তবে এলসি নিষ্পত্তিতে মিশ্র চিত্র দেখা দিয়েছে। কিছু খাতে বাড়লেও কিছু খাতে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।


বিজ্ঞাপন


ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট কমে আসায় ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা সহজ হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারেও পড়ছে। এলসি বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে এবং দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছিল ২৫৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভোগ্যপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ২৪৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। ফলে নিষ্পত্তি কমেছে ২ কোটি ৯ লাখ ডলার।

ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি—দুটোই বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ হারে।

7

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছিল ১ হাজার ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে এলসি খোলা বেড়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

এ খাতে এলসি নিষ্পত্তিও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে শিল্পের কাঁচামালের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৯৬৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৯৬৯ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। ফলে নিষ্পত্তি বেড়েছে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে কম গুরুত্বপূর্ণ ও বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রবাসী আয় বাড়ায় এবং ডলার সংকট কিছুটা কমায় এলসির ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রয়োজন, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলায়। এ খাতে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩২ দশমিক ২২ শতাংশ। বিপরীতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছিল ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে এলসি খোলা বেড়েছে ২২ কোটি ২ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারে। ফলে নিষ্পত্তি কমেছে ১৫ কোটি ২ লাখ ডলার।

টিএই/এমআর/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর