রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে বড় ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ এএম

শেয়ার করুন:

ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে বড় ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন
নড়াইলের লোহাগড়ায় ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন বড় ভাই ইতালি প্রবাসী মোহাম্মদ বেলাল আহমেদের।

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষীপাশা এলাকায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অভিযোগ এনে আপন ছোট ভাই মুছা মোল্যার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার বড় ভাই ইতালি প্রবাসী মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লক্ষীলাশা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেলাল আহমেদ বলেন, তার বাড়ি লক্ষ্মীপাশার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম-পাড়ায়। তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ইতালিতে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। তার দাবি, লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭২, ১৭৩ ও ১৫৬৬ দাগের বর্তমান হাল দাগ ৫৫৫ ও ৫৫৪ ভেতরে দানপত্র মূলে প্রাপ্ত ১ একর ৮৫ শতাংশ জমির মধ্যে তিনি ৬১ শতাংশ জমির মালিক। প্রবাসে থাকাকালীন তার ছোট ভাই ও পরিবারের সদস্যরা জমি দেখাশোনা করতেন।

তার অভিযোগ, ২০১৪ সালে দেশে ফিরে তিনি দেখেন, তার অজান্তে জমি খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিকভাবে সমাধান না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে আদালতে বণ্টন মামলা করেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। গত ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিনি তার স্ত্রীর নামে ৩৯ শতাংশ জমির ভেতর থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ জমি হেবা করে দেন। ওই জমির আলাদা দাগ হয় ৬৪২ এবং খাজনা ও রেকর্ড তার স্ত্রীর নামে হয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে তার অভিযোগ, ২০১৮ সালে তার স্ত্রীর নামের ওই জমির ওপর জাল দলিল তৈরি করে দখলের চেষ্টা করেছেন তার আপন ছোট ভাই মুছা মোল্যা। মূল দলিল থেকে জাল দলিল তৈরি করে রাতের অন্ধকারে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১৪৪ ধারা জারি করে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১৪৪ ধারায় ৫৫৫ দাগ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত জমির দাগ ৬৪২। তার দাবি, ভিন্ন দাগ দেখিয়ে তার জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তিনি তার দুই বোনকে তার বাড়িতে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বোনদের বাড়িতে উঠতে দেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানান।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মো. মুছা মোল্যাকে ফোন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাচীর ভাঙার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বিরোধে জড়িত উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রতিনিধি/এএম

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর