‘হাইব্রিড’ নেতাদের অত্যাচারে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন বলে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন শামীম গাজী নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের কৃষকদল নেতা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় শামীম তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল ও লুটসহ নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ করেন উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ কবিরাজ ও তার ভাই মেহেদী কবিরাজের বাহিনীর বিরুদ্ধে।
শামীম রায়পুর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজীর ছেলে। অভিযুক্ত ফারুক কবিরাজ উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। জানা গেছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একাধিকবার কারাগারে যেতে হয়েছে শামীম নামে এ নেতাকে।
লিখিত বক্তব্যে শামীম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোনোদিন ফারুক কবিরাজকে আন্দোলন সংগ্রামে দেখিনি। ৫ আগস্টের পর হাইব্রিড রুপে ফিরে এসে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হন। এরমধ্যে তার ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্ব একটি অস্ত্রধারী বাহিনী ইউনিয়নব্যাপী আধিপত্য বিস্তার করেন। তারা চরের অন্তত দুই হাজার একর জমি দখল করে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মাছঘাট দখল, চাঁদাবাজি, দুঃসময়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুরসহ ‘ত্রাস’ সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে তারা। এ ছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করেছে। যাদের অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারে না।
শামীম বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের শেষ ১৩ বছর রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ফারুক কবিরাজ ষড়যন্ত্র ও তার ভাই মেহেদী কবিরাজের একের পর এক হামলায় এখনো রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারি না। তারা আমার তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের চেয়ে বেশি কষ্ট এখন আমি ভোগ করছি। ফ্যাসিস্টের আমলের চেয়ে আমি এখন আরও বেশি খারাপ অবস্থায় আছি। হত্যার হুমকি ও আমার কর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে আমি ও আমার নেতাকর্মীরা পরিবার নিয়ে নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শামীম। তার দাবি উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীতা নিয়েই নেতাকর্মীসহ তাকে মামলা দিয়ে হয়রানিসহ অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে ফারুক কবিরাজ।
জানতে চাইলে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজ বলেন, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত জনগণ শামীমের ফার্মেসিতে হামলা করে। এ ঘটনায় আমি বা আমার কেউ জড়িত নয়। এ ছাড়া অন্যান্য অভিযোগের ঘটনাগুলো কখনো ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, শামীম গাজীর মাছঘাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা শুনেছি। তবে এসব ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




