বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি গাছ লুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

শ্রমিকদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি গাছ লুটের অভিযোগ
বরিশালের উজিরপুরে সরকারি সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে

বরিশালের উজিরপুরে সরকারি সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর নেতৃত্বে সানুহার-ধামুরা সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে গাছ কেটে নেওয়া হলেও এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী।

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি কার্যালয়ে ফিরে যান। পরদিন সকাল ১০টার দিকে আবার কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে তিন থেকে চারটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গাছগুলোতে চিহ্ন দিয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় গাছ কাটা। এরই মধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বেশ কিছু গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়কটির উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে দুই পাশ খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। এ সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দিনে ও রাতেও চলছে গাছ কাটার কাজ।

এদিকে, সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন তিনি। দলীয় নেতাদের অনুরোধে পরবর্তী সময়ে পোস্টটি মুছে ফেলেন বলে বুধবার দুপুরে স্বীকার করেন ওই ব্যক্তি। তবে গাছ কাটার ঘটনা সত্য বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

উজিরপুর বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত নয়। তবে শুনেছেন, সাবেক একজন সংসদ সদস্য স্থানীয়দের নিয়ে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো কারা রোপণ করেছিলেন, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সরকারি জায়গার গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর