বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন, নিহত ২

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতন, নিহত ২
টেকনাফে মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালানের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে চারজনকে পাহাড়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) পৃথক দুটি স্থান থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুজনকে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মোক্তার আহমদ (৪০) ও আলী আকবর। বুধবার সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকা থেকে মোক্তার আহমদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোক্তার আহমদ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় আলী আকবরের মরদেহ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাতটার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে গুরুতর আহত তিনজনকে পশ্চিম পানখালী ভিলেজার পাড়া টিলার পশ্চিম পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয় এক কৃষক তাঁদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁদের একজন মোক্তার আহমদ মারা যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন- টেকনাফের তুলাতলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (৩৫) ও একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে আলী আহমদ (২৬)।

বুধবার দুপুর ১ টার দিকে উলুচামরী ও লেচুয়াপ্রাং এলাকার মধ্যবর্তী পাহাড়ের একটি পেয়ারা বাগানে আরেক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে সেটি এ ঘটনায় নিখোঁজ থাকা চতুর্থ ব্যক্তি আলী আকবরের বলে শনাক্ত করা হয়।

আহত মোহাম্মদ ইলিয়াছের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে হস্তান্তরের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। পথে একটি ডাকাত দল চালানটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

ইলিয়াসের ভাষ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়। পরে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে বিচারের কথা বলে তাঁদের চারজনকে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন।

ওই গ্রুপের সদস্যরা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় নির্যাতনকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ইলিয়াস আরও জানান, নির্যাতনের একপর্যায়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। 

মাদকের চালানটির মালিক হ্নীলা এলাকার এক মাদক কারবারি বলেও দাবি করেন ইলিয়াস।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর