বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ এএম

শেয়ার করুন:

মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতি, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মনখালী ও শামলাপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ববিরোধ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে দুই গ্রামের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত তৎপরতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিদের উদ্যোগে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি দল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধের সূত্রপাত গত ২৫ অক্টোবর। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে শামলাপুরের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইনম্যানের সঙ্গে মনখালীর এক বাসিন্দার কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ করেন ওই বাসিন্দা।

এর জেরে পর দিন ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে শামলাপুরে ফেরার পথে মনখালীর কয়েকজন বাসিন্দা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীদের আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতা এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে আটকে রাখা অটোরিকশাগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শামলাপুর বাজারে মনখালী ও শামলাপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনখালীর সালাহ উদ্দিন ও শামলাপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তৈয়বের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর সালাহ উদ্দিন মনখালী এলাকায় গিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন । এতে দুই এলাকার মধ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন। এ সময় কয়েকজনের হাতে দা, কোদাল ও লাঠিসোঁটা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী বলছেন, সামান্য বিরোধের জেরে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে এমন উত্তেজনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান এবং জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বড় ডেইলে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি জানাই। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সঙ্গে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরা দুই পক্ষকে শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর