রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরত্বে ‘সুবলং চ্যানেল’-এর সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন বগুড়া জেলার রাব্বী রহমান। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন একই জেলার মো. মেহেদী হাসান এবং মো. নয়ন ইসলাম। এ ছাড়া চতুর্থ হয়েছেন বগুড়া জেলার আব্দুল আল মাহমুদ আর পঞ্চম হয়েছেন রাঙামাটি জেলার হাফিজুর রহমান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় বরকল উপজেলার সুবলং বাজার ঘাট থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সুবলং বাজার থেকে শহরের শহিদ মিনার এলাকার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ঘাটে এসে শেষ হয়।
সাঁতার প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২ জন সাঁতারু প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। পরে দুপুরে রাঙামাটি শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বিজয়ী তিনজনের মধ্যে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ১৫ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইকরামুল রাহাত, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়াসহ অন্যরা।
এসময় রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘সাঁতার আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হল জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সাঁতার যেন আমরা শিখি। একই সঙ্গে পানির প্রতি মানুষের যে ভয় সেটা যেন দূর হয়ে যায়।’
সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করা বগুড়া জেলা থেকে আগত রাব্বী রহমান বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে আমার প্রথমবার প্রতিযোগিতা। আগে আমি বাংলা চ্যানেল জয় করেছি এবং ন্যাশনালে একাধিক গোল্ড এবং একাধিক পদক পেয়েছি। কাপ্তাই হ্রদে আগে আমার নামা হয়েছিল কিন্তু ওভাবে সাঁতার করা হয়নি। এবার প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমার অনেক ভালো লাগতেছে। ’
তিনি বলেন, ‘চারিদিকে পাহাড় আর মাঝখানে বয়ে চলা লেক অনেক সুন্দর লেগেছে। এই দৃশ্য অন্য জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না। আমি ৪৬ কিলোমিটার করেছি তিস্তা ব্যারেজে ওখানেও এরকম দৃশ্য ছিল না।
‘আমাদের যমুনাতেও ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ফিনিশিং দিয়েছি। কিন্তু এরকম ভিউ এবং এরকম সৌন্দর্য আমি কোথাও পাইনি। কাপ্তাইয়ে আমার ফিনিশিং দিয়ে অনেক ভালো লাগতেছে। আমার পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার।’
প্রতিনিধি/এএম




