বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পটিবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নামে দলিলকৃত তিন শতাংশ জমির মধ্যে দুই শতাংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে দুই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। পৈত্রিক সূত্রে জমির মালিকানা দাবি করে তারা সম্প্রতি ওই জমি দখলে নেন বলে অভিযোগ মন্দির সংশ্লিষ্টদের। এতে মন্দিরের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- উজিরপুর উপজেলা কৃষক লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হরশিৎ মণ্ডল ও তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সঞ্জিত মণ্ডল।
মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১১ সালে পটিবাড়ী মৌজার জেএল নম্বর-৭, এসএ খতিয়ান নম্বর-৮৩-এর ৩১০ দাগ থেকে তিন শতাংশ জমি পটিবাড়ী সার্বজনীন দুর্গা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের নামে দলিল করে দেন মৃত রাজেন্দ্র নাথ মণ্ডলের ছেলে কার্তিক মণ্ডল, সুভাষ মণ্ডল ও সুশীল মণ্ডল।
তাদের অভিযোগ, মন্দিরের নামে দলিল করে দেওয়া ওই তিন শতাংশ জমির মধ্যে দুই শতাংশ জমি বিএস মাঠ পর্চায় টেম্পারিং করে কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হরশিৎ মণ্ডল ও সঞ্জিত মণ্ডল জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্দিরের উত্তর পাশে থাকা কালী মন্দিরের জমি দখল করে সেখানে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মন্দির কমিটির সভাপতি সুনীল বালাসহ অন্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
পরে মন্দির কমিটির সভাপতি বরিশাল এডিএম আদালতে মামলা করেন। শুনানি শেষে আদালত মন্দিরের সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মন্দিরের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে মন্দিরের নামে দলিল দেওয়া জমির মধ্যে দুই শতাংশ বিএস মাঠ পর্চা থেকে টেম্পারিং করে বাদ দেওয়ার অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আবেদন করেছেন জমিদাতা কার্তিক মণ্ডল, সুভাষ মণ্ডল ও সুশীল মণ্ডল।
বুধবার এ বিষয়ে শুনানির সময় মন্দিরের নামে দলিল করা সম্পত্তি থেকে দুই শতাংশ জমি কেটে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ সময় ভূমি অফিসে উপস্থিত কর্মকর্তারা এ ঘটনায় হরশিৎ মণ্ডল ও সঞ্জিত মণ্ডলকে তিরষ্কার করেন। আগামী ২ নভেম্বর বিষয়টি সমাধানের কথা জানিয়েছে সেটেলমেন্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
অভিযোগের বিষয়ে হরশিৎ মণ্ডল বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পৈত্রিক সূত্রে এ জমি পেয়েছি। এসএ ও আরএস পর্চায় আমাদের নামে জমি রয়েছে। ভূমি অফিস স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে জমি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। ব্যক্তিগত শত্রুতাকে এখন জমি বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এলএ




