কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আত্মহত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- অজ্ঞাতনামা কাভার্ডভ্যান চালক মাজহারুল ইসলাম সাইমুন (৪০) ও উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এর ধোড়করা পূর্বপাড়া গোপালনগর গ্রামের মোস্তফা জাহাঙ্গীর সোহাগের স্ত্রী মমতাজ আক্তার রুনা (৩৫)।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের জগন্নাথদীঘি সংলগ্ন জামে মসজিদের বিপরীত পাশে ঢাকাগামী একটি চলন্ত কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৫৬১৩) অপর একটি কাভার্ডভ্যান (চট্ট-মেট্রো-ট-১২-০৯২৯) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে সামনের কাভার্ডভ্যানচালক মাজহারুল ইসলাম সাইমুন গুরুতর আহত হন। এ সময় পেছনের কাভার্ডভ্যানচালক গাড়ি থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত চালক মাজহারুলকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে পারিবাহিক কলহের জেরে মমতাজ আক্তার রুনা (৩৫) স্বামীর বাড়ি উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এর ধোড়করা পূর্বপাড়া গোপালনগর গ্রামে সকাল ১০টার দিকে গলায় ওড়না পেছিয়ে নিজ শয়নকক্ষের সিলিংফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
নিহত রুনা চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার জয়ন্তীনগর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। তার স্বামী মোস্তফা জাহাঙ্গীর সোহাগ আল-আরাফাহ ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী বলে জানা গেছে।
দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সকালের নাস্তা তৈরিতে দেরি হওয়ায় রুনার সাথে তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম (৯০)-এর সাথে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর জেরে রুনা ক্ষোভে নিজ শয়নকক্ষের ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সংবাদ পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ




