রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে শেষ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই আসামিকে দুই দফায় মোট ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১০ মিনিট থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী কারাগারে গিয়ে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেলা ২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রথম দফায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে গত সোমবার রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তদন্তে আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং আগের জবানবন্দির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে: পুলিশ
তিনি বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ, ঘটনার আগে ও পরে আসামিদের গতিবিধি এবং তাদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে বিভিন্ন আলামতের মিল খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। বর্তমানে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
প্রতিনিধি/জেবি




