মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উৎঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ
ছবিতে পুলিশের কব্জায় গ্রেফতার দুই আসামি। ইনসেটে হত্যার শিকার এক পরিবারের চারজন

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে খুনের আলোচিত ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে দাবি করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে জেলগেটে প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চার খুনের মামলাটি তদন্তাধীন। তাই এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এখনো আসেনি। তবে আপনাদেরকে আপডেট দিতে চাই, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাবাসাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজকে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। 

আরও পড়ুন: রংপুরে চার খুন: ডিবি হেফাজতে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাই

তিনি বলেন, মামলার রহস্য উদঘাটনে আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছি। আশা করছি সেই পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি হবে।

এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। সেখানে গ্রেফতার দুই আসামিকে তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। 

তবে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য সামনে এসেছে কি না এবং তারা এ বিষয়ে মুখ খুলেছে কি না, তা জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ৪ খুন: কী ঘটেছিল সেই রাতে, জবানবন্দিতে উঠে এলো রোমহর্ষক বর্ণনা

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলোর ক্রসচেক করার জন্য গ্রেফতার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডের প্রয়োজন থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

আরও পড়ুন: রংপুরের ৪ খুনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে: পুলিশ

এ ঘটনায় একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দেন। 

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ৮-৯ ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ।

প্রতিনিধি/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর