মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৩২ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শিগগিরই

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

৩২ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শিগগিরই
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৩২ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, আইনগত জটিলতার অবসান হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে একই স্থানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিন আইনগত জটিলতার কারণে ৩২ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সেই জটিলতা নেই। পিএসসির সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগির নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেতন-স্কেলসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শ্রেণিকক্ষ, আসবাব, বাথরুম ও খেলার মাঠের মান উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সব বিদ্যালয়ের জন্য ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। সেই মান বজায় রাখতে না পারলে নিবন্ধন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতে পারবে না।

সাংস্কৃতিক শিক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গান ও নৃত্যের পাশাপাশি বক্তৃতা, বিতর্ক, কেরাতসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে এর আওতায় আনা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিকের দক্ষ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হবে। নির্দিষ্ট বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য অস্থায়ী শিক্ষক ব্যবস্থার নীতিমালাও করা হচ্ছে।

প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে এর আগে শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশন লার্নিংয়ের মান উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর না রেখে অ্যাকটিভ লার্নিং পদ্ধতিতে নেওয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত নয়, সিভিক ও ভ্যালু-ভিত্তিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি না কম, তা বড় বিষয় নয়। প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। জন্মহার কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সব এলাকায় একই সংখ্যক শিক্ষার্থীর চাহিদা থাকবে না।

কোনো অভিভাবককে জোর করে সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তান ভর্তি করানো হবে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের মান এমন পর্যায়ে নেওয়া হবে, যাতে অভিভাবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সন্তানকে সেখানে ভর্তি করতে চান। কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে, সে জন্য স্কুল ফিডিং, ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবার বিনিময়ে বেতন নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্যায়ভাবে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিভাগের দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। দেশের আট বিভাগে ধারাবাহিকভাবে এ কর্মশালা হচ্ছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহীর পর খুলনা, রংপুর ও ঢাকা বিভাগে কর্মশালা হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কর্মশালার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নতুন নীতিগত উদ্যোগ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি পরবর্তী ১৮০ দিন ও সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার কাজ করবে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (আইএমডি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম।

প্রতিনিধি/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর