কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ এবং সিলেটের শাহজালালের দরগাহর পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মাজারের দানবাক্সে মিলল কোটি টাকার উপরে। সঙ্গে সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহাসিক খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স একযোগে খোলা হয়। সেখানে পাওয়া যায় ১২ বস্তা টাকা। প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে গণনা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এসব দানবাক্সে এক কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া দানবাক্সগুলোতে সোনা-রুপা ও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেল। গণনা শেষে এসব টাকা মাজারের নামে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা দেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে সোমবার সকাল ৯টায় দানবাক্সগুলো খোলার কাজ শুরু হয়। গণনা শেষ হয় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে।
আরও পড়ুন
পাতে আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী বর!
‘আস্ত খাসির’ জন্য নয়, ১০ গুণ কাবিন চাওয়ায় বিয়ে ভেঙেছে: অভিযোগ সেই বরের
গণনার কাজে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রায় ৫০ কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এ সময় আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাজারের চারটি দানবাক্স থেকে পাওয়া ১২ বস্তা টাকার পাশাপাশি সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। এসব সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার এখনো মূল্য বা পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। এগুলো মাজার কমিটির জিম্মায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও করা হচ্ছে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম বলেন, ২০২৩ সালে মাজারের দানবাক্সে ৮৪ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ টাকা এবং এর আগে ৬১ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি পাওয়া গেছে। এবার বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণের চাকতি এবং স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া কিছু উপহারসামগ্রীও পাওয়া গেছে।
ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় চারটি দানবাক্সের গণনা শুরু হয়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শেষ হয়। মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া গেছে। এসব টাকা মাজারের নামে সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। দানবাক্সে পাওয়া সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা এখনো যাচাই করা হয়নি। এগুলো মাজার কমিটির জিম্মায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো। তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সঙ্গী ও আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট থেকে মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। গত শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। রোববার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ওরসের আনুষ্ঠানিকতা চলে। এ সময় দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত-আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দান করেন।
প্রতিনিধি/জেবি




