বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

লোডশেডিংয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের চেয়ে গ্রামে ভোগান্তি বেশি

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

লোডশেডিংয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের চেয়ে গ্রামে ভোগান্তি বেশি
শহরের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সংকটের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। ছবি: ঢাকা মেইল

ভ্যাপসা গরম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুয়াডাঙ্গাজুড়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সংকটের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। শহর এলাকায় কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে গেলেও তুলনামূলক দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন অনেক গ্রামে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে দিনে ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যে তা ফিরে আসছে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। গভীর রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা মূলত কৃষিপ্রধান জেলা। বর্তমানে মাঠের ফসলে সেচ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো সেচ পাম্প চালু রাখতে পারছেন না কৃষকরা। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক শাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘সেচ পাম্প চালু করলেই অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। ফসল বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ডিজেল দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।’

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা চালকরাও। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের অটোরিকশাচালক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছি না। দিনে চার্জ দিতে গেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না। ফলে আয় কমে গেছে। পরিবার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এছাড়া গ্রামীণ বাজারের রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা, পোল্ট্রি ফার্ম ও ফ্রিজিং ব্যবসাগুলোও বিদ্যুতের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ না থাকায় শেডে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে না পেরে মুরগি মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলিয়ে তাদের প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ওজোপাডিকোর আওতাধীন চুয়াডাঙ্গা সদর ও পৌর এলাকায় প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৩৮ হাজার ৩০০, বাণিজ্যিক ৫ হাজার ২৫০ এবং সি.এস (কন্টিনিউয়াস সাপ্লাই) বা কৃষিভিত্তিক গ্রাহক ১৬৬ জন। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ১২টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার চারটি ফিডারেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

ওজোপাডিকো সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদরে প্রায় ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ মেগাওয়াট। আর আলমডাঙ্গায় ৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ মেগাওয়াট।

চুয়াডাঙ্গা ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা মিলে আমাদের প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ২৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, তাদের জোনে মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৭৪ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ ওজোপাডিকো এবং ৭০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় সব এলাকার গ্রাহকরাই দিনে-রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর