শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘মিছিলের’ মামলায় শিশুপুত্র আসামি, যুবদল নেতার আক্ষেপ

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

Bbaria dhakamail
যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম ও তার শিশুপুত্র আলভি। ছবি: ঢাকা মেইল

নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের ২০ জনের মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আসামি দেড় শতাধিক। তালিকায় যুবদলের এক নেতার ১৭ বছর বয়সী ছেলেসহ বহু নিরীহ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যুবলীগের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় যুবদল নেতা রফিকুল ইসলামের শিশুপুত্রকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আমার শিশুপুত্র আলভিকে (১৭) আসামি করে জীবনের শুরুতেই দাগ লাগিয়ে দিল। এটাই কি আমার প্রাপ্তি?’


বিজ্ঞাপন


গত রোববার (১৭ মে) ভোরে সরাইলের শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তিতাস ব্রিজের পূর্ব পাশে যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল হয়। যুবলীগ নেতা শেখ মুন্নার নেতৃত্বে ওই মিছিলে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন অংশ নেন। মিছিলের দুই মিনিটের একটি ভিডিও মুন্নার ফেসবুকে আপলোড করা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

প্রতিবাদে ওই দিন সন্ধ্যায় সরাইল সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামী। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে শেখ মুন্না ও তার দোসরদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এরই মধ্যে ওই রাতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন এসআই বখতিয়ার। মামলায় নামীয় আসামি করা হয় ১৩৯ জনকে। অজ্ঞাত আসামি আরও ১৫ থেকে ২০ জন।

মামলার তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, উপজেলার বর্তমান ও সাবেক ১০-১১ জন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন যুবদল নেতা মো. রফিকুল ইসলামের ১৭ বছর বয়সী ছেলে আলভি। তিনি ওই মামলার ৩৪ নম্বর আসামি। বিষাদ ঝরছে স্থানীয় কৃষক দল নেতা মো. তাজুল ইসলামের কণ্ঠেও। তার দুই ছেলে আকাশ মিয়া (২৬) ও আরাফাত রহমান (১৮)– দুজনই মামলার আসামি। ঘটনার দিন আকাশ মিয়া ঢাকার সাভারে একটি চীনা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


msil
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: ঢাকা মেইল

আক্ষেপে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়নে বিএনপির জন্মদাতা কয়েকজনের একজন আমি। গোটা পরিবার এই দলের জন্য কাজ করে গেছে। আজ সেই দলের মামলায় আমার দুই ছেলে গায়েবি আসামি। পিতা হিসেবে তাদের কাছে আমি ব্যর্থ।’

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের তীব্র নিন্দা জানাই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেন বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যদি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ফায়দা লুটতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিরপরাধ ও নির্দোষ লোকদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘ভুয়া মামলা দিচ্ছেন, বাণিজ্য করছেন, করতে থাকেন। পরিণতির জন্যও প্রস্তুত থাকবেন দয়া করে।’

ঢাকার এক সভায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ১৫-২০ জন মিছিল করেছে, তাদের মুখে ছিল মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ। এমন অবস্থায় কাউকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা অসম্ভব। অথচ দেড় শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা। মূল কথা হলো, কিছু নেতা পুলিশের সঙ্গে মিলে বাণিজ্য করবেন। মামলার আগেই ফোন দিয়ে বলেন, “আসামি হয়ে যাবা। বাঁচতে টাকা দাও।’

সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা এখানে নতুন। সবাইকে চিনি না। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী আসামি করা হয়েছে। তদন্তে যারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

এদিকে মামলা ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক রিফাত বিন জিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদ মিছিলের পর উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ওসি মহোদয়কে বলে দিয়েছিলেন, ওই মিছিলে থাকা ১৫-২০ জনের নামে মামলা দিতে। কিন্তু কেন ১৩৯ জনের নামে মামলা দেওয়া হলো? এখানে লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের মতো এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’

উল্লেখ্য, এই মামলায় শাহাজাদাপুর ইউনিয়নের সাতজন বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য এবং সরাইল সদর, কালীকচ্ছের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও একজন দলনিরপেক্ষ ব্যবসায়ীকেও আসামি করা হয়েছে। এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উপজেলা সদরের সর্বত্র এই মামলাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোচনা চলছে।

প্রতিনিধি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর