শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফার্মেসি মালিক ও তার ভাগিনাকে রিসেপশনিস্টের থাপ্পড়! ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৭:১১ এএম

শেয়ার করুন:

ফার্মেসি মালিক ও তার ভাগিনাকে রিসেপশনিস্টের থাপ্পড়! ভিডিও ভাইরাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যমুনা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসেপশনিস্ট তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ফার্মেসির মালিক ও তার ভাগিনাকে থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত ফার্মেসির সামনে ঘটনাটি ঘটলেও তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে সোমবার (১৮ মে) বিকেলে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে যমুনা হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে নিয়োগ পান তাসলিমা বেগম। তাকে হাসপাতালের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বর্তমান চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী নিয়োগ দেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, যোগদানের পর থেকেই জুলফিকারের প্রভাব খাটিয়ে তাসলিমা হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিলেন।

ফার্মেসির মালিক জামাল মিয়া জানান, তিনি এক রোগীর ওষুধের বিল করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ বাইরে উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। পরে রিসেপশন থেকে উঠে এসে তাসলিমা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোরা আমাকে নিয়ে কি বলছিস। এনিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাসলিমা জামাল মিয়ার ভাগিনা অথয়কে থাপ্পড় মারেন। পরে জামাল মিয়া দোকান থেকে বের হয়ে আসলে তাকেও থাপ্পড় মারেন। পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 


বিজ্ঞাপন


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জুলফিকারের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে হাসপাতালের অন্যান্য পরিচালকদের দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। যা সমাধানে সম্প্রতি শহরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা বসে হাসপাতালের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। নতুন কমিটিতে জুলফিকার আলীকে চেয়ারম্যান এবং কাউসার মিয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়। তবে আগের কমিটির সময় জুলফিকারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, হিসাব গোপন রাখা এবং সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের কাছে রাখাসহ নানা অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন পরিচালকরা।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার মিয়া বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। সাবেক এমডি জুলফিকার আলীর মাধ্যমে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বাইরে দেওয়া  হয়েছে। পরে সেটি সম্পাদনা করে ফেসবুকে হাসপাতালের নামে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সিসিটিভিতে স্পষ্ট দেখা গেছে তাসলিমা ফার্মেসির মালিককে থাপ্পড় ও ঘুষি মারছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলফিকার এমডি থাকাকালে হাসপাতালের প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, কিন্তু পরিচালকরা কোনো লাভ পাননি। নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই হাসপাতালকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্তমান চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে বাদ দিয়ে গোপনে কয়েকটি মিটিং করা হয়েছে। তাসলিমাকে দিয়ে আমি কিছু করাইনি। সাংবাদিকরা আমার কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েছেন। শহরের নেতৃস্থানীয় লোকজন ও চিকিৎসক নেতারা বসে হাসপাতালের বিরোধ মীমাংসা করে আমাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের স্টাফ ও ফার্মেসি মালিকের মধ্যে ঝামেলার ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত নারীর পক্ষ থেকেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর