ফরিদপুরে এক বিধবাকে ফ্যামিলি ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সুজন শেখ (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চার দিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে ফিরেছেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা। আর অভিযুক্ত সুজন শেখ আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সুজনের সখ্যতা রয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার। তিনি কখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে সুজন শেখ ২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রিকশায় তুলে নেন। পরে বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে যান। ওই নারীকে বলা হয়, এখানেই অফিস। পরে ওই হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন। ৭ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন তিনি।
বিচারের দাবি জানিয়ে ওই নারী বলেন, ‘আমি তো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গিয়েছিলাম। সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে সুজনের সঙ্গে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার জীবনটাকে শেষ করে দিলো। আমি ওর বিচার চাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ওই মহিলা কার্ড করার জন্য মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে আসত। ওই দিনও আমার বাড়িতে এলে আমি উত্তেজিত হয়ে তাকে লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, ‘শহরের আলিপুর এলাকায় সুজন নামে আমাদের দলীয় কোনো নেতা বা কর্মী আছে বলে আমার জানা নেই। তবে অপরাধী যেই হোক, আমি তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারী প্রায় ৫০ বছর বয়সী। এটি খুবই ন্যক্কারজনক কাজ। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। পরে র্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে।
প্রতিনিধি/এমআই




