শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, সূত্রপাত পাওয়ার কারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, সূত্রপাত পাওয়ার কারে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা অভিমুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফৌজদারহাটের বিএমএ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনিসুর রহমান জানান, ট্রেনটির পাওয়ার কার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন আরও বড় আকার ধারণ করার আগেই যাত্রীরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন।


বিজ্ঞাপন


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কুমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আহসান আলী জানান, পাওয়ার কার থেকে পাশের কোচে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: চট্টলা এক্সপ্রেসের বগির আগুন নিয়ন্ত্রণে

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৬০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ১৬ বগির চট্টলা এক্সপ্রেস। সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ও ফৌজদারহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) ২ নম্বর ফটকের প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে ট্রেনটির দুটি বগিতে আগুনের বিষয়টি নজরে আসে। এ সময় ট্রেনটি থেমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত যাত্রীদের নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে হুড়োহুড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে যান। পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটেই ট্রেনটিতে আগুনের উপস্থিতি ছিল এবং প্ল্যাটফর্মে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীদের সতর্ক করেন।


বিজ্ঞাপন


আগুনে ট্রেনের দুটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার সময় ভাটিয়ারী ও ফৌজদারহাট স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়লেও বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে সব ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান, আগুনে অক্ষত বগিগুলো প্রথমে কুমিরা স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম থেকে দুটি বগি এনে সংযুক্ত করার পর ট্রেনটি সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি চট্টগ্রামের মেরামত কারখানায় নেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর