বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শেরপুর-২

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় ঝুলছে বিএনপি প্রার্থী, ফুরফুরে জামায়াত

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় ঝুলছে বিএনপি প্রার্থী, ফুরফুরে জামায়াত
ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আইনি সুরাহা না হলে, এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য মাঠ ফাঁকা। আরভএমন শঙ্কা করছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।


বিজ্ঞাপন


মনোনয়নপত্র বাছাই কমিটির সভাপতি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। ফাহিম চৌধুরীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রে অসংগতি থাকায় তা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে। প্রার্থী চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

জানা যায়, এ আসনে বিএনপির আরও হেভিওয়েট ৫ জন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন পান সাবেক হুইপ প্রয়াত আলহাজ জাহিদ আলী চৌধুরীর ছেলে ফাহিম চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফজলুর রহমান তারা, প্রভাষক নূরুল ইসলাম ও দুলাল চৌধুরী সরে দাঁড়ান। তবে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইলিয়াস খান বিএনপির প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দলের চিঠি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কঠিন হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিএনপির কর্মী সমর্থকরা বলছেন, আমরা আলহাজ জাহেদ আলী চৌধুরীকে ভোট দিয়েছিলাম। এরপর আর ভোট দিতে পারেনি। ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পলায়নের পর এবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার একটি সুযোগ এসেছে। কিন্তু আসনটি দলের প্রার্থীশূন্য হয়ে যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগড় ইউনিয়নের রাজনগরের বাসিন্দা সোহরাব উদ্দিন বলেন, যদি ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ না হয়, তবে জামায়াতের প্রার্থী এ আসনে সম্ভবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন।

নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চন্দ্রকোনা বাজারের ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, আমরা আলহাজ জাহেদ আলী চৌধুরীর লোক। খেয়ে না খেয়ে উনার নির্বাচন করেছি। দীর্ঘ চারটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার ফাহিম চৌধুরীকে ভোট দেবো এবং তার জন্য নির্বাচনি কাজও করছি। কিন্তু সে তার কাগজপত্র আগেভাগেই প্রস্তুত রাখলেন না কেন? যদি আগেভাগেই সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতেন তাহলে এই দু টানায় ভুগতে হতো না। আমরা এখনো হতাশার মধ্যেই আছি।

আরও পড়ুন

মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব: মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

জামায়াতের একাধিক রুকন বলেন, আমাদের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ভিপির লোকজন ফুরফুরে রয়েছেন। আমরা ইসির বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী জানান, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। কিন্তু বড়দিন ও খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ছুটির কারণে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস বন্ধ থাকায় সময়মতো অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) হাতে পাননি। শিগ্‌গিরই পেয়ে তা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পাবেন।

জেলা বিএনপি নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন বলেন, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর গত ২৪ ডিসেম্বর ফাহিম চৌধুরী ফরম পূরণ করে ডলার জমা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেন। দ্রুতই সব পেপারস হাতে পেয়ে যাব আমরা, একই সাথে প্রার্থিতা ফেরত পাব। তবে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ বিভিন্ন অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য প্রভাষক নূরুল আমিন বলেন, দুজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ফাহিম চৌধুরীরটা বাতিল হয়ে গেছে। আসন ফাঁকা থাকতে পারে না। তাই মনোনয়ন পেতে ইলিয়াস খান আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করি, একজনেরটা অবশ্যই টিকে যাবে।

নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমরা ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী ভাইকে মাঠে চাই। আইনের ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি, ফাহিম ভাইয়ের জন্য প্রার্থিতা ফেরত আসা খুব কঠিন।

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর সব পেপারস খুব দ্রুত এসে যাবে। আমরা প্রার্থিতা ফেরত পাব।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর