ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল না হওয়ায় তার মনোনয়নটি বাতিল হতে পারে বলে জেলাজুড়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। রোববার (৪ জানুয়ারি) মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিনে যখন ফেনী-৩ আসনের নির্ধারিত সিডিউল দুপুর ১টা থেকে পিছিয়ে আড়াইটা এবং পরে ৩টায় নিয়ে যাওয়া হয় তখনই সেই ধারণা সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।
বিজ্ঞাপন
যাচাই-বাছাইকালে উপস্থিত থাকা ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম বলেন, যখন বারবার ফেনী-৩ আসনের যাচাই-বাছাই পেছানো হচ্ছে তখন মিন্টু সাহেবের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিষয়টি আরও ঘনীভুত হয়। দুপুর ১টায় যাচাই বাছাই না করে বিকাল ৩টায় যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
‘সব প্রার্থীর ফলাফল ঘোষণার পর সবার শেষে আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, মিন্টু সাহেবের বিষয়ে এ হাউস কিছু বলবে কি না? এ সময় আমি বলি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পারি মিন্টু সাহেবের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিহার করেননি। আসলে বিষয়টি কী? এর উত্তরটি পুরোপুরি না দিয়ে জেলা প্রশাসক মিন্টু সাহেবের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রমের সমাপনী ঘোষণা করেন।’, বলেন আবদুর রহীম।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের কোনো প্রমাণপত্র জমা না দেওয়ার পরও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিন্টুর মনোনয়নপত্রটি কীভাবে বৈধ ঘোষণা করেন তা নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যমসহ জেলার সর্বত্র বিষয়টি নিয়ে নানান বিতর্ক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, যারা আমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করেছেন তাদের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা। কারণ আমাদের মতো লোকদের অনেক কাগজপত্র, অন্তত ১৫টি ব্যাংকে আমার ঋণ রয়েছে। আবার বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি রয়েছে, সবকিছু উনারা কষ্ট করে যাচাই-বাছাইয়ে সঠিক পেয়েছেন। ফেনীর জনগণের কল্যাণে তাদের প্রত্যাশা ও মান উন্নয়নে কী করা দরকার সেই সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবহিত। এগুলো বাস্তবায়নের জন্যই শেষ বয়সে নির্বাচন করছি।
বিজ্ঞাপন
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, মার্কিন দূতাবাসে ইমেইলে এ সংক্রান্ত কনভারসেশনের তথ্য ও দুটো ফর্মের মতামত জমা দিয়েছেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ ব্যাপারে পিপির পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আমার ভুলও হতে পারে। কেউ চাইলে আপিল করতে পরেন।
আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিকত্বের বাইরে অন্য দেশের নাগরিক হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

