বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কঠিন হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কঠিন হচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং কিছু দলের শীর্ষ নেতারা ভিভিআইপি প্রটোকল সুবিধা পাচ্ছেন। এতে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে, যা নির্বাচনের ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।
 
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
 
গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা এখানে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। প্রথমত, আমাদের ইসলামী আন্দোলনের যারা নির্বাচনের জন্য প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কিছু প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন তুচ্ছ এবং সামান্য কারণে বাতিল করা হয়েছে, যা মূলত সংশোধনযোগ্য ছিল। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, যে ছোটখাট ত্রুটি সংশোধনযোগ্য, সেগুলো সংশোধন করে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে। আমরা দেখেছি, এমন কিছু ক্ষেত্রেও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি যা মূলত সামান্য বিষয় ছিল।
 
সংশোধনযোগ্য ভুলের উদাহরণ উল্লেখ করে আতাউর রহমান বলেন, আমাদের প্রার্থীদের মধ্যে একজনের এক মাসের বিদ্যুৎ বিল বাকি ছিল, যা এক হাজার টাকার নিচে। এর কারণেও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার তারিখ উল্লেখ না করা, সাত-আট জায়গায় স্বাক্ষর করতে গিয়ে এক-দুই স্থানে ভুলে স্বাক্ষর না করা বা কিছু ক্লারিক্যাল ভুলের জন্যও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
 
আতাউর রহমান বলেন, যৌক্তিক কোনো কারণ থাকলে—যেমন ঋণ খেলাপি, মামলা, তথ্য গোপন, জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়—মনোনয়ন বাতিল যৌক্তিক। কিন্তু যে সমস্ত বিষয় সমাধানযোগ্য এবং ক্লারিক্যাল মিস্টেক, সেগুলো সংশোধনযোগ্য। অতীতেও এগুলো সংশোধন হয়ে যেত। কিন্তু এবার এসব ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও আমাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি, এটি অনিয়ম হয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে কমিশনকে জানিয়েছি। একটি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংকট তৈরি হয়—এই বিষয়টিও আমরা জানিয়েছি।


অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে আতাউর রহমান বলেন, এখনো পর্যন্ত লুট হওয়া অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তবে এখনও বেশ কিছু অস্ত্র অব্যাহতি রয়েছে। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রক্রিয়া প্রত্যেকবার জোরদার করা হয়, কিন্তু এবার সেই গতি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে।
 
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এই মুখপাত্র বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং দুই-একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ভিভিআইপি প্রটোকল সুবিধা পাচ্ছেন। এটি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।
 
আতাউর রহমান বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন জরিপ প্রকাশিত হলেও অনেক এনজিওর জরিপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা স্বচ্ছ স্যাম্পলিং নেই। তবু গণমাধ্যম যাচাই ছাড়াই এসব প্রচার করছে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অতীতের মতোই এখনো মিডিয়া নতুনভাবে ফ্যাসিবাদী উপাদান সামনে আনছে—এতে আমরা উদ্বিগ্ন। জরিপে ৯৯ শতাংশ সমর্থনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। মিডিয়া ও এনজিওসহ সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। প্রেসের স্বাধীনতা থাকবে, তবে জবাবদিহিতা ছাড়া বিভ্রান্তি ছড়ালে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। 
 
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের প্রসঙ্গেও আতাউর রহমান বলেন, আমরা শোকাহত, তবে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি হচ্ছে। সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিন দিনের জাতীয় শোক পালন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে মাসের পর মাস শোক পালন করে কোনো রাজনৈতিক দল সুবিধা নিতে না পারে—এ বিষয়টিও আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছি। সিইসি বিষয়টি নোটে নিয়েছেন এবং পর্যবেক্ষণ করবেন।
 
আতাউর রহমান বলেন, আমাদের প্রার্থীদের যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য আপিল করা হবে। কিছু আপিল ইতোমধ্যে করা হয়েছে, বাকিগুলোও করা হবে। খুব সামান্য কারণে যারা বাতিল হয়েছেন, তারা আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।
 
গণভোটের প্রচারণা বিষয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, একইসঙ্গে জুলাই সনদের ওপর গণভোটও হবে। কিন্তু আজ গণভোট নিয়ে আলোচনা কম এবং নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে সেভাবে ফোকাস করছে না। আমরা বলেছি, গণভোট বিষয়ক প্রচারণা ও আলোচনা বাড়াতে হবে, যাতে ভোটাররা সচেতন থাকে।’
 
এমএইচএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর