সৌদি আরবে পুলিশের গুলিতে নরসিংদীর হাসিম উদ্দিন (৪৪) নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) কাজে যোগ দেওয়ার পর তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে মারা যান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বীরগঞ্জে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে দম্পতির আত্মহত্যা
নিহত হাসিম উদ্দিন শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গড়বাড়ী গ্রামের মৃত লেহাজ উদ্দিনের ছেলে। বাংলাদেশে হাসিম উদ্দিনের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় রিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতেন হাসিম উদ্দিন। অভাব-অনটনের সংসারে সুখের হাসি ফোটাতে ২০২৫ সালের ২২ জুন সৌদি আরব চলে যান।
বিদেশ যাওয়ার সময় বাড়ির অনেক কিছুই বিক্রি করে দেন হাসিম।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরব গিয়ে জেদ্দার সাবিহায় সিটি ক্লিনারের কাজ শুরু করেন। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি সুখেই ছিলেন। ২৩ নভেম্বর শনিবার রাতে বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা হয় তার। প্রতিদিনের মতো ২৪ নভেম্বর রোববার সকালে নির্ধারিত কাজে যোগদান করেন। দুর্ভাগ্যবশত সৌদি আরবের সময়ে সকাল ১০টায় পিছন থেকে পুলিশের একটি গুলি তার পিঠে লেগে পেট দিয়ে বের হয়। হাসিম উদ্দিন মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চিৎকার করতে থাকেন। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সেই দেশের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচাতে পারেননি। ওই দিনই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় এবং তার সাথীরা মৃত্যুর খবর বাড়িতে জানায়।
হাসিম উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা বেগম জানান, ২৪ নভেম্বর (রোববার) বাংলাদেশ সময়ে ১টায় জানতে পারি যে সৌদি আরবের সময়ে সকাল ১০টায় তার স্বামী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
স্বামীর সঙ্গে থাকা বন্ধু আলতাফ হোসেন তাদেরকে রোববার বেলা ১টায় মোবাইল ফোনে জানান, তার স্বামী কাজ করছিল। এ সময় অদূরেই পুলিশ এক চোরকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিটি ভুলবশত তার স্বামীর পিঠে গিয়ে লাগে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই দিনই মারা যান তিনি।
নিহত হাসিম উদ্দিনের মেয়ে স্মৃতি আক্তার জানান, তার পিতার মরদেহ দেশে আনার জন্য নরসিংদী জেলা জনশক্তি অফিস ও সৌদি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
প্রতিনিধি/ এমইউ




