ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক এখন রাজধানীর রাজপথে। তেলের দাম বাড়ার শঙ্কায় শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়। তবে লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চালকরা। অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার বেশি তেল মিলছে না।
পাম্পে পাম্পে ‘সাপের মতো’ দীর্ঘ সারি
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের সামনে জ্বালানি সংগ্রহের সারি সাকুরা বার ছাড়িয়ে পিজি হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। একইভাবে তেজগাঁওয়ের সাউদার্ন অটোমোাইলস লিমিটেডের সামনে গাড়ির লাইন নাবিস্কো মোড় পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি।
৫০০ টাকার বেশি জ্বালানি মিলছে না, চালকদের ক্ষোভ
পাম্প কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকার বেশি তেল না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করায় বিপাকে পড়েছেন নিয়মিত যাতায়াতকারীরা। বেসরকারি চাকরিজীবী রাতুল ইসলাম জানান, "দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে যখন পাম্পের কাছে পৌঁছালাম, তখন শুনলাম ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হবে না। এইটুকু তেলে কয়দিন চলা যায়?"
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে প্রতি মাসে ১০০০ টাকার জ্বালানি সাশ্রয় করার উপায়
অন্য এক চালক রমিজ জানান, তিনি দুবার লাইনে দাঁড়িয়ে ১০০০ টাকার তেল নিয়েছেন যাতে অন্তত এক সপ্তাহ পার করা যায়। তবে আগামী দিনগুলোতে কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র দুশ্চিন্তা দেখা গেছে।
ঝুলছে সতর্কতামূলক নোটিশ
রাজধানীর বেশিরভাগ পাম্পেই এখন ঝুলছে নোটিশ— ‘এখানে বোতল বা কন্টেইনারে জ্বালানি দেওয়া হয় না’। সাউদার্ন অটোমোাইলস লিমিটেডের পাম্প অপারেটররা জানান, মালিকপক্ষের নির্দেশেই এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে যাতে সবাই অন্তত কিছু পরিমাণ জ্বালানি পায় এবং মজুদদারি রোধ করা যায়।
জ্বালানি তেলের বাজারদর ২০২৬
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ২০২৬ সালের মার্চের বাজার দর অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই মাসে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে নির্ধারিত পাম্পগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাংলাদেশে এই মাসের জন্য নির্ধারিত এই মূল্যেই গ্রাহকরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
এজেড
