বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক এবং চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
আমীরুল ইসলাম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন প্রকাশক কাদের বাবু।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি মূলত শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল লেখা রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। প্রকাশিত সব বইই শিশুসাহিত্যের।
শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
খ্যাতিমান কবি আল মুজাহিদী: বাংলা সাহিত্যের এক প্রহরীর বিদায়
এক সাহিত্য সম্পাদকের প্রস্থান, এক যুগের অবসান
আমীরুল ইসলাম পাঁচবার অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০০৩), পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৫), ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার (২০০৭), ছোটদের মেলা পুরস্কার (২০০৯-১০), জাতীয় ছড়া উৎসব সম্মাননা (২০১১) এবং শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার (২০১১) লাভ করেন।
২০১১ সালে ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল পুনর্মিলনী সম্মাননাও পান তিনি। পরের বছর কলকাতা থেকে লাভ করেন অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার।
সাহিত্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন আমীরুল ইসলাম। তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্য ও গণমাধ্যম—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘ সময় সক্রিয় থেকে শিশুদের জন্য বিপুলসংখ্যক সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন এই শিশুসাহিত্যিক।
জেবি




