Dhaka Mail Logo

আবহাওয়া

গম-আলু চাষ ও বোরো বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের বিশেষ আবহাওয়া পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শীত মৌসুম সামনে রেখে গম ও আলু চাষ এবং বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে সবজি ও উদ্যান ফসলের রোগবালাই দমন, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির যত্ন এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গত ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত কৃষকদের জন্য কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ফসলের বীজতলা থেকে শুরু করে কোন সময় কি করতে হবে তা তুলে ধরে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

গমের জন্য পরামর্শ

উপযুক্ত জো অবস্থায় বপনের জন্য জমি তৈরি করতে হবে। শেষ চাষের পূর্বে হেক্টর প্রতি ১০ টন পঁচা গোবর/কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেই সঙ্গে যথাক্রমে ১৫০ কেজি ইউরিয়া, ১৩৫ কেজি টিএসপি, ১০০ কেজি এমওপি, ১১০ কেজি জিপসাম এবং ৬ কেজি বরিক অ্যাসিড বেসাল ডোজ হিসাবে জমিতে প্রয়োগ করুন।

বোরো ধানের জন্য পরামর্শ

বোরো ধানের বীজতলা তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উঁচু জায়গায় বীজতলা তৈরি এবং জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। সমবায়ভিত্তিক বীজতলা করা যেতে পারে।

অনুমোদিত জাতের বীজ ব্যবহারের জন্যও বলা হয়েছে। বীজতলার চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতকে ২৮৩ গ্রাম হারে ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে।

ইউরিয়া প্রয়োগে সমাধান না হলে প্রতি শতকে ৪০০ গ্রাম জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে।

সবজি চাষে পরামর্শ

হালকা সেচ প্রয়োগ করুন। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে বেগুনে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে।

এ পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কীড়াসহ আক্রান্ত ডগা কেটে ধ্বংস করতে হবে। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকার বংশবৃদ্ধি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

শসা জাতীয় সবজিতে পাউডারি মিলডিউ রোগ দেখা দিতে পারে। নিয়ন্ত্রণের জন্য হেক্সাকোনাজল বা ম্যানকোজেব গ্রুপের বালাইনাশক প্রয়োগ করুন।

বর্তমান আবহাওয়ায় শিম ও বাঁধাকপিতে জাব পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উদ্যান ফসলের জন্য পরামর্শ

কলার পাতা ও ফলের বিটল পোকা থেকে রক্ষা করার জন্য মোচা থেকে কলা বের হওয়ার আগেই ছিদ্রযুক্ত পলিথিন দিয়ে কলার কাঁদি ব্যাগিং করে দিতে হবে।

বর্তমান আবহাওয়ায় পেয়ারায় ছাতরা পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম গুড়া সাবান মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

বর্তমান আবহাওয়ায় নারিকেল গাছে মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। আক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত গাছের সকল কচি ডাব কেটে নামিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তারপর আক্রান্ত গাছ এবং আশেপাশের কম বয়সী গাছে যে কোনো মাকড় নাশক স্প্রে করতে হবে এবং পাশাপাশি সেচ দিতে হবে।

সরিষা চাষে হালকা সেচ প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গবাদি পশু পালনে পরামর্শ

গবাদি পশুকে কৃমিনাশক না দেওয়া থাকলে কৃমি নাশক দিতে হবে। গবাদি পশুর বয়স ও শারীরিক সুস্থতার ভিত্তিতে টিকা প্রদান ও গোয়াল ঘরের চালা ও মেঝে পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যে কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রাতের তাপমাত্রা কমে আসার কারণে নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষায় সকালে ও সন্ধ্যায় দুগ্ধবতী গাভি ও বাছুরকে চটের বস্তা দিয়ে জড়িয়ে দিতে হবে।

হাঁস-মুরগি পালনে পরামর্শ

যে কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসার জন্য দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মুরগির খোয়াড়ে সন্ধ্যার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাল্ব (১০০ ওয়াট বা এর বেশি) জ্বালিয়ে রাখলে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ বালাই কমে যাবে।

মৎস্য চাষে পরামর্শ

শীতকালে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে খাবার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।

পুকুর শুকিয়ে তলদেশের কালো/পচা কাদা অপসারণ করারও পরামর্শ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে মেরামত করতে হবে। 

মাছের রোগবালাই দেখা দিলে বা কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি না হলে নিকটস্থ উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

বাৎসরিক পুকুর হলে সব মাছ আহরণ করে পরবর্তী বছরের জন্য পুকুর প্রস্তুতি ও শীতের শুরুতে প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করলে মাছের রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আলু চাষে পরামর্শ

রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ১৬০ থেকে ১৭৫ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করার জন্য চাষীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর ২য় বার আলুর জমিতে সেচ প্রদানের জন্য চাষীদের বলা হয়েছে।

এমএইচএইচ/এএম