ফিচার প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
অক্টোবর শুরু হতেই দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস মিলতে শুরু করেছে। বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসার পাশাপাশি ভোর ও রাতে দেশের কোথাও কোথাও হালকা শীতের অনুভূতিও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও দিনভর গরমের দাপট থাকছেই। তবে দিনের সূর্য ডুবে গেলে সন্ধ্যার পর কিছুটা শীতের আমেজ মিলে। অনেকের মনেই এখন প্রশ্ন- তবে কি এবার শীত আগেভাগে আসবে? এই বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক পূর্বাভাসে কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায় নিতে পারে। একই সঙ্গে পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টি কমে আকাশ পরিষ্কার হলে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যার সূচনা সাধারণত দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি টের পাওয়া যায়। তবে কেবল অক্টোবরের এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শীত এখনই চলে আসছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রার পরিবর্তনই শীতের প্রকৃত আগমনের ইঙ্গিত দেবে।
আরও পড়ুন: ১০০০ বছর পর পৃথিবী কেমন হবে? বিজ্ঞানীদের ১০টি মডেলে ভবিষ্যতের ছবি
অন্যদিকে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) বৈশ্বিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টির ধরনে প্রভাব ফেললেও, কেবল এর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের শীত বেশি বা কম হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেননা, বাংলাদেশের শীতের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক আবহাওয়া পরিস্থিতি ও পরবর্তী স্থানীয় পূর্বাভাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শীত কেবল তাপমাত্রা হ্রাসের বিষয় নয়; এর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কুয়াশা, নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ, চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা এবং কৃষি কাজের বিষয়টিও জড়িত। তাই শীতের সঠিক তীব্রতা ও আগমনের বার্তা জানতে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এজেড